দিনভর নানা আয়োজন শেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল সে সময়ের। মিলনায়তন ভর্তি দর্শক আর মঞ্চে শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ অতিথিদেরও আগ্রহের কমতি নেই। অপেক্ষার পালা শেষে শুরু হয় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা। দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজাইমরা প্রতিটি নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিজয়ীদের সতীর্থরা। করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান অতিথিসহ অন্যরা। এ যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল। তবে তারা জানে এখানে শেষ নয়, যেতে হবে বহুদূর।

বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান উৎসবের জাতীয় পর্বে সমাপনী আয়োজনে ঘোষণা করা হয় জাতীয় উৎসবের বিজয়ীদের নাম। তিন ক্যাটাগরিতে মাইকে উচ্চৈঃস্বরে জানানো হয় কারা হলো এবারের বিজয়ী। দ্বিতীয় রানারআপ, প্রথম রানারআপ ও চ্যাম্পিয়নসহ বিশেষ ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নীরব মিলনায়তন যেন মুহূর্তেই মুখর হয়ে ওঠে সবার আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।

সব আয়োজন শেষে যখন বাড়ি ফেরার পালা, তখন কথা হয় জুনিয়র ক্যাটাগরি থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া গালিবা তাসফিয়া অররার সঙ্গে। ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী গার্লস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসেছে। আঞ্চলিক পর্বেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সে। তখন থেকেই তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। জাতীয় পর্বে ভালো ফল বয়ে আনার চেষ্টা আরও বেড়ে যায়। এই অর্জনের যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে এক কথায় বলে ফেলে, পরিশ্রমের ফল পেলাম। কয়েক মাস ধরে পরিশ্রম করছি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছিলাম। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হলেও আজকের এই বিজয় অনেকটা পথ এগিয়ে দিল। আমার ইচ্ছা, জীববিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে এ ক্ষেত্রে নতুন কিছু উদ্ভাবনের।

এমন সুরেই কথা বলছিল চট্টগ্রাম থেকে আসা শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থ পাল। সে জানায়, চট্টগ্রাম থেকে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া প্রতিযোগিতাটা ছিল বেশ কঠিন। আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে জাতীয় পর্বে ভালো কিছু করতে পেরে এবার দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেল। বিশেষ করে এবার বিশেষ সম্মাননা জগদীশ চন্দ্র বসু পুরস্কার পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। এ কথা যখন বলছিল তখন তার চোখেমুখে ছিল কঠোর পরিশ্রমের ছাপ। তবে মুখে ছিল বিজয়ের হাসি। সিদ্ধার্থ পাল সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে উৎসবে অংশ নিয়েছে। তার কাছে জীববিজ্ঞান এমন এক বিষয়, যার শাখা-প্রশাখা বিশ্বজুড়ে বিরাজমান। তার স্বপ্ন বিশ্ব অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার। তার সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে অনেকেই এসেছে, যারা তার পথেই হেঁটেছে।

একই অঞ্চলের ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থী ফুয়াদ আল ফায়াজ হাইয়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া গৌরব অর্জন করেছে। তাই এই অর্জনে তারা পিতা-মাতাসহ শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। জীববিজ্ঞান তার প্রিয় একটি বিষয়। জীববিজ্ঞান নিয়ে তার আগ্রহের শেষ নেই। জানার ও বোঝার সেই আগ্রহই তাকে এ পর্যন্ত এনেছে বলে সে মনে করে। ফুয়াদ জানায়, আধুনিক জীবনের প্রভাব জীববিজ্ঞানকে কিছুটা ক্ষতির সাধন করেছে। আমি চাই জীববিজ্ঞানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে উন্নত জীবন গড়ে তুলতে।
সভাপতি সুহৃদ সমাবেশ, ডিআইআইটি