প্রায় দুই যুগের ওপরে হতে চলল প্রিয় বাংলাদেশ থেকে প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার দূরে সংসার পেতেছে নিশি। কিংবা হুমায়ুন আজাদের ভাষায় বলতে গেলে "এই তাৎপর্যহীন জীবন"কে খানিকটা অর্থবহ করতে কিংবা "চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ার আগে আরো কিছু দূর যেতে''- নিদারুণ ব্যস্ততায় কাটছে তার মূর্হুত, ঘণ্টা, দিন। একসময় উত্তর সমুদ্রের পাড়ের এই ভিনদেশি আবহাওয়ায় নিজেকে খাপ খাওয়াতে কী কষ্টটাই না হয়েছে! আজও কি পুরোপুরি পেরেছে? এখনও আনমনে দ্রুত হাঁটতে গিয়ে কি পা পিছলে বরফের ওপরে পড়ে না? নিজের সম্পূর্ণটা ঢেলে যতখানি সম্ভব শুদ্ধ ওলন্দাজ উচ্চারণে ও ব্যাকরণে যখন কথা বলে, প্রায়ই টেবিলের ওপারের তিন হেসে বলেন, ভাষাটা তুমি খুব সুন্দর শিখেছো। মুহূর্তেই জেনে যায় সে তাদের কেউ নয়, সে অন্য দেশের অন্য কেউ যে নিজেকে তাদের দেশের আচার-আচরণে অভ্যস্ত করতে ব্যস্ত। অথচ এই অব্দি পৌঁছতে তাকে কত পথ হেঁটে আসতে হয়েছে। কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে সালোয়ার-কামিজ, চটিতে অভ্যস্ত জীবন এখন জিন্স, সোয়েটার আর বুটসে মোড়া। অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে গরম স্যুপের সাথে লুমপিয়া কিংবা ক্রোকেট খেতে খেতে ভাবে আহা সেই আমার টিএসসির তেহারি কিংবা ডাসের কলিজা শিঙাড়া। তারপরও কর্মময় জীবন একসময় এসব ভাবালুতা পেছনে ফেলে স্যুপ, স্যান্ডউইচে অভ্যস্ত হয়ে যায়।
আজ জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়।
মরণ ভুলে গিয়ে ছুটে ছুটে আয়
হাসি নিয়ে আয় আর বাঁশি নিয়ে আয়
যুগের নতুন দিগন্তে সব ছুটে ছুটে আয়।।
ফাগুন ফুলের আনন্দে সব ছুটে ছুটে আয়।
প্রয়াত ভূপেন হাজারিকার গাওয়া এই গানটি নিশির খুব বেশি প্রিয়। আগে ভালো লাগতো শুধু কথা আর সুরের জন্য, আর এখন ভালো লাগে নিজের যাপিত জীবনে অনুভব করার জন্য। এখানে কেউ পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করে না, অযাচিত স্পর্শ নেই, নারী বলে কর্মক্ষেত্রে অবমাননা নেই, রাতবিরেতে সাইকেল চালাতে কিংবা জিমে যেতে বা হাঁটাহাঁটি করতেও কোনো ভয় নেই। থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট আর টিশার্ট পরে নিশ্চিন্তে বিচে হাঁটে, গলা ছেড়ে গান করে, ফুটবলে নেদারল্যান্ডস জিতলে সবার সাথে রাস্তায় নাচে, রাজার জন্মদিনে ওপেন এয়ার কনসার্টে নাচে কোনোটাতেই এ বয়সের আদেখলেপনা নিয়ে চোখ বাঁকা করে জাজ করার কেউ নেই। এখানে জীবন হলো যাপন করার জন্যে, কোন বয়সে কী মানায় তার গণ্ডিতে ফেলে নিজেকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়। সেই সাথে মনের গহীনে জমে থাকা পুঞ্জীভূত বেদনাও পোড়ায়, বাংলাদেশের ক্রিকেট জয়ের আনন্দে কখনও চুল খুলে রাস্তায় নামতে পারেনি, লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে নিজ দেশে জীবন খুঁজে নিতে পারেনি, উৎসবে আনন্দে ছুটে ছুটে আসতে পারেনি।
খুব সোজাসাপ্টা কথা বলা, সাদামাটা জীবন যাপনের জন্য ওলন্দাজ সংস্কৃতি বিখ্যাত। প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় সব মন্ত্রীই রোজ সাইকেল চালিয়ে অফিসে আসেন। অন্য সবার মতোই তাঁদেরও যানজট এড়িয়ে সময়মতো অফিসে আসার তাড়া থাকে। অফিসের সামনের ক্যাফেটারিয়াতে বসে কফি খান। ফর্মাল কোনো অনুষ্ঠান না থাকলে মোটামুটি সবাই সাধারণ জিন্স, কেডসে অফিস করেন। মানুষের একাকিত্ব আর ডিভাইস আসক্তি কমানোর জন্য গার্ডেন অফিসের প্রচলন হয়েছে পৃথিবীজুড়ে, নেদারল্যান্ডসও এর ব্যতিক্রম নয়। সুতরাং কারও কোনো ফিক্সড ডেস্ক নেই, যে যখন আসবে, যেই ডেস্ক ফ্রি থাকবে সেখানে বসেই কাজ করতে হবে। এতে পদমর্যাদা নিয়ে লড়াই কিংবা বড়াই করার সুযোগ কম। বাংলাদেশের মতো এরকম স্যার, বড় স্যার, ম্যাডামের দেশ থেকে এসে এসবে অভ্যস্ত হতে রীতিমতো ধাক্কাই খেয়েছে প্রথম দিনগুলোতে সে। এখনও কি অভ্যস্ত হতে পেরেছে? আজও যখন লাঞ্চ ব্রেকে সিএফও অবলীলায় পাশের চেয়ারে বসে পড়েন তার অস্বস্তি কাজ করে। অহেতুক বাজে খরচ না করার জন্যে বিশ্বজুড়ে 'কিপ্টে' খ্যাতিও ওলন্দাজদের দখলে, এই নিয়ে কে কী বলল তা নিয়ে তাদের থোড়াই পরোয়া আছে? নিশির এখন সমস্যা হলো, দেশে বেড়াতে এলে অনেক কিছুই তার বাজে খরচ মনে হয়। কেউ তার সাথে দেখা করতে এলে তিন কেজি মিষ্টি নিয়ে আসে আবার নিশিকে বেড়াতে গেলেও একই কাজ করতে হয়, যেখানে মানুষ হয়তো পাঁচ থেকে দশজন। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে, বোঝাতে গেলে, মিতব্যয়ী হওয়ার ভালো দিকটা ব্যাখ্যা করতে গেলে উলটো শুনতে হয়, অনেক বেশি ইউরোপিয়ান হয়ে গেছো, একদম দেখি ওদের মতো। বুকের ব্যথা কাউকে বলা যায় না, কিন্তু ইচ্ছে করে বলতে জীবনের বেশি সময়টা ওখানে কাটল, কী করে আশা করো আমি তোমাদের মতো থাকব?
এ ধরনের কথাবার্তা কি দেশের মানুষই বলে? না, এখানে বাস করা নিজ দেশি ভাইবোনেরাও বলে।
একবেলা ভাত খাও? সন্ধ্যা ছটায় খেয়ে নাও?
পুরাই দেখি ডাচ। এই কথাগুলো যারা বলে তারা হয়তো একবারই বলে। যে শোনে সে হাজারবার শুনে ক্লান্ত।
বাঙালির মেয়ে হয়ে সিগারেট খায়, মদ খায়, ডিস্কোতে যায় কিংবা ছেলে বন্ধু আছে? ভাবা যায়? বিদেশে এসে বাঙালিদের এই অধঃপতন? বাবা-মা ঠিক করে শিক্ষা দেন নাই, পয়সার পেছনে ভাগছেন আর কী?
যে মেয়েটি শুধু চামড়ায় বাদামি, কারণ তার বাবা-মা বাংলাদেশি বাকি তার জন্ম, পড়ালেখা, সমাজ, বন্ধু, খেলাধুলা সব নেদারল্যান্ডসেই। তার জীবন কেটেছে অন্য বিদেশিদের সাথে, তিন কিংবা পাঁচ বছরে একবার কয়েক সপ্তাহের জন্যে ছুটি কাটানো ছাড়া বাংলাদেশের কোনো অস্তিত্ব তার জীবনে নেই; কিন্তু তাকেও অহরহ এসব নিন্দার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় শুধু বাংলাদেশি কারও ঘরে জন্মেছে বলে।
পূর্ব-পশ্চিমের এই ব্যবধান দিন দিন বড় হয়ে দেখা দেয়। পূর্বে যেটাকে স্বাভাবিক লাগতো বহুদিন পশ্চিমে থাকার পর সেগুলোকে অযৌক্তিক লাগতে থাকে। এখানে সাধারণত খাওয়া মানে, ভাত নয় রুটি, মাছ বা মাংস, সবজি কিংবা সালাদ। দেশে প্রায় প্রতিবেলায় পঞ্চ ব্যাঞ্জন রান্না করতে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তা যদি কোনো উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হতো তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা আরও জোরেও হয়তো ঘুরতে পারতো। তাছাড়া পশ্চিমে বেশিরভাগ মানুষই নিজের কাজ নিজে করতে অভ্যস্ত, ছোটবেলা থেকেই সবাইকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হয়। পূর্বে স্বনির্ভতার সংজ্ঞাটাই ভিন্ন আর তাই হয়তো প্রতিটি বাড়িতেই সাহায্যকারী কর্মীর দরকার হয়।
সব কিছু এসব কিছুর পরেও হেমন্তে যখন এখানে পাতা ঝরা শুরু হয়, পাতায় পাতায় রঙের খেলা, বিদায় নেওয়ার পালা, চারধার শান্ত হয়ে আসতে থাকে, শীতের আমেজ মনে করিয়ে দেয় আরও একটি বছর কালের গর্ভে হারাতে যাচ্ছে, তখন হারিয়ে ফেলা সেই ছোটবেলার কাঁচা খেজুরের রসের গন্ধ, ঠান্ডা খেজুরের রস খেতে খেতে সোয়েটার পরা গায়েও কেঁপে কেঁপে ওঠা, স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার সুবাদে গ্রামে বেড়াতে যাওয়া, সেই বেড়ানোকে উপলক্ষ করে গ্রামে সদ্য বন্ধুত্ব হওয়া নাম না জানা তুতো ভাইবোনদের সাথে ফসল ভরা জমিতে বেড়াতে যাওয়া। জমি থেকে টেনে তোলা শিশির ধোয়া ধনেপাতা দিয়ে তাজা কুল আর তেঁতুল মাখা ভর্তার গন্ধ, চারদিকে হলুদ সর্ষের চাদর বিছানো, কাঁচা সর্ষে শাকের গন্ধ, মাটি তোলা নতুন আলু আর মটরশুটি। জমি থেকে তুলে আনা টমেটো, ধনেপাতা দিয়ে ছোট মাছের চর্চরি। ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা আর পাখি শিকারির ভিড়। কিংবা তেল ভরা বালিহাঁস আর ভুনা খিচুড়ির জন্যে মনটা কেমন কেমন করে ওঠে না?
সবই কি হারিয়ে যায়? উচ্চপ্রযুক্তির কেন্দ্রস্থল বলে খ্যাত এই শহরে থেকেও, নিশি চোখ বন্ধ করলেই পরিস্কার দেখতে পায়, শ্যাওলা পড়া পুকুর ঘাট, গাছে গাছে জড়াজড়ি করে থাকা গ্রাম্য জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া এবড়োখেবড়ো পায়ে চলা মেঠো পথ, এ বাড়ি ও বাড়ির আঙিনা ডিঙিয়ে কোন মাঠে গিয়ে মিশেছে। সেই মাঠ আবার মিশেছে আকাশের সাথে। প্রতিটি বাড়ির সামনে বিরাট বিরাট উঠোন, শিমের মাচা, লাউয়ের মাচা, পাশেই গরুর ঘর। কী শান্ত অলস যেন পটে আঁকা ছবি। প্রায় শুকিয়ে আসা খালের পাড়ে বাঁধা নৌকা, মসজিদের পেছন দিকে জঙ্গল, এসব কিছুর জন্যে আজও অন্তরে গভীর হাহাকার অনুভব করে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফুচকা চটপটি খাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষের অনুভূতি দেয়, বেলী কিংবা কাঁঠালিচাঁপার গন্ধ দেহ মনে সেই সময়ে যে শিরশিরানি আনতো আজো তেমনই আকুল করে। চওড়া পাড় দেওয়া ভাঁজ ভাঙা বাসন্তী রঙের নতুন তাঁতের শাড়ি, হাতে রং-বেরঙের লাল হলুদ সবুজ রেশমী চুড়ি, কপালজুড়ে বড় চাঁদের মতো কালচে লাল টিপ আর ঘাড় গলা খোঁপাজুড়ে জড়িয়ে থাকবে অজগরসম কাঁঠালিচাঁপার মালা- ফাল্কগ্দুনের এই সাজে নিজেকে সাজিয়ে বন্ধুদের সাথে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলায় কলরবমুখর পদচারণা। সেই জ্বলে ওঠা নিভে যাওয়া জোনাকি পোকা, আমসত্ত্ব, চালতার আঁচার, সারা গায়ে সুর মেখে হুড খুলে বৃষ্টিতে ভেজা এর কোনটা সে ভুলতে পেরেছে? সবইতো মনে হয় এই সেদিনের কথা, যখন সে ওখানকার একজন ছিল।
এখন কথা হতে পারে শ্যাওলাপড়া পুকুর নদী কি নেদারল্যান্ডসে নেই? এখানে কি ঘুঘু ডাকে না? রঙিন প্রজাপতি ওড়ে না? হ্যাঁ কথা সত্যি, এ সব এখানেও আছে, হয়তো খানিকটা অন্য ফর্মে, অন্য ঢঙে। প্রবাসীরা যেমন সব কিছু ইউরো থেকে টাকায় কনভার্ট করে দেখতে ভালোবাসে। তেমনি প্রকৃতির মধ্যেও নিজ দেশের তুলনা খুঁজতে ভালোবাসে, স্মৃতিতে হারিয়ে নস্টালজিকতায় ভোগা প্রবাস জীবনের সতত ধর্ম বলা চলে।
দেশে গেলে প্রায় প্রত্যেকেরই জিজ্ঞাসা, কবে এসেছিস, ক'দিন থাকবি? বক্তব্য খুব পরিস্কার, তুই আর আমাদের কেউ নোস, ক্ষণিকের অতিথি। তাকে ঘিরে চারপাশজুড়ে এত আনন্দ কোলাহল থাকা সত্ত্বেও নিশির শুধু মনে হতে থাকে, ছবি হয়ে রয়ে গেছি সবার স্মৃতিতে, বাস্তবে আর আমার কোনো অস্তিত্ব নেই। সত্যিই কি নেই? তাহলে অনুষ্ঠানে আপনজনরা যখন ডাকে, তুই না এলে হবে না, তাড়াতাড়ি আয়। কোনো সমস্যায় পড়লে বলে, তুই না বোঝালে কারও কথা শুনবে না সেগুলো কি তবে ভুল? তার অন্তর জানে, এগুলোও ভুল না। প্রতিবার বাড়ি ছেড়ে আসার কষ্টটা যেমন সত্যি, তেমনি চলে আসার পর দিন দিন আবার এখানে অভ্যস্ত আরামে ফিরে আসাটাও ঠিক ততটাই সত্যি। তারচেয়ে বড় সত্যি হলো, তিন-চার সপ্তাহ পরিবারের সবার সাথে থাকলে, বন্ধুদের সাথে র?্যান্ডম আড্ডা দিলে, দেশের এই অসহ্য যানজট, খাবারে প্রাণনাশী ভেজাল, চারপাশের অকারণ উচ্চ শব্দদূষণ সব কেমন যেন স্বাভাবিক লাগতে থাকে, সহ্যও হয়ে যায়।

তসলিমা নাসরিনের মতো বলতে পারে না,
-আমার জন্য অপেক্ষা করো মধুপুর নেত্রকোনা
অপেক্ষা করো জয়দেবপুরের চৌরাস্তা
আমি ফিরব। ফিরব ভিড়ে হট্টগোল, খরায় বন্যায়
অপেক্ষা করো চৌচালা ঘর, উঠোন, লেবুতলা, গোল্লাছুটের মাঠ
আমি ফিরব। পূর্ণিমায় গান গাইতে, দোলনায় দুলতে, ছিপ ফেলতে বাঁশবনের পুকুরে-

জীবনের এই প্রান্তে পৌঁছে আজ জানে নিশি নিষ্ঠুর এসময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। ছেড়ে আসা যত সহজ ফিরে যাওয়া ততই কঠিন। যে জায়গা একবার ছেড়ে আসা হয় সে জায়গায় আর ফেরা হয় না। বারবার ফিরে গেলেও ফেরা হয় না। মানুষ বদলে যায়, মন বদলে যায়, চিন্তা-ভাবনা-পরিবেশ, অভ্যস্ততা, অভ্যাস সব বদলে যায়। এত ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন হয় যে সহসা মন তা অনুভবই করে উঠতে পারে না। প্রবাসের পথে যারা পা বাড়ায় তাদের হয়তো দেশ বলতে আর কিছুই থাকে না। তারা প্রবাসেও খানিকটা বেমানান, আবার দেশেও অনাকাঙ্ক্ষিত উৎপাত। লোপামুদ্রা মিত্রর এই গানটা নিশির তাই বড্ড প্রিয়-

ঠিক যেখানে দিনের শুরু, অন্ধ কালো রাত্রি শেষ
মন যতদূর চায়ছে যেতে, ঠিক ততদূর আমার দেশ
এই কাঁটাতার জঙ্গিবিমান, এই পতাকা রাষ্ট্র নয়
দেশ মানে বুক আকাশ জোড়া, ইচ্ছে হাজার সূর্যোদয়
এই মানচিত্র জ্বলছে জ্বলুক, এই দাবানল পোড়াক চোখ
আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক...