'বিজ্ঞান কোনো জটিল-কঠিন বিষয় নয়। বিজ্ঞানকে আনন্দদায়ক মনে করে হাতে-কলমে আয়ত্ত করতে পারলেই তা সহজ হয়ে যায়। যারা বিজ্ঞানকে মুখস্থ করে আয়ত্ত করতে চায়; তাদের কাছে বিজ্ঞান জটিল আকার ধারণ করে।' কথাগুলো পঞ্চগড় সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব-২০২২ এর আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হয়ে আসা আফিয়া আক্তার লুবনার। শুধু লুবনাই নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হয়ে আসা ২০ জন প্রতিযোগী অষ্টম জাতীয় বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছে।
'ইয়েরেভানে বাংলার জয়গান'- এ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের গণকবাড়ীতে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে চার দিনব্যাপী অষ্টম জাতীয় বায়োক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূইয়া। উপস্থিত ছিলেন ওই ইনস্টিটিউডের মলিকুলার বায়োটেকনোলজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান কেশব চন্দ্র দাস ও প্রশিক্ষণ বিভাগের কোর্স কো-অর্ডিনেটর হাবিবুন নবী ফরহাদ।
ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূইয়া বলেন, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে তারা ব্রোঞ্জ পায়, সিলভার পায় না; গোল্ড তো দূরের কথা। এ ব্যর্থতা প্রতিযোগী ছাত্রছাত্রীদের নয়। এটা আমাদের দেশের বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা। কারণ দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার যে উপকরণ কিংবা আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকার দরকার, তা নেই। থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। ব্যবহারিক বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানকে কঠিন বিষয় মনে করছে। তারা হাতে-কলমে শিখতে না পেরে মুখস্থ করার চেষ্টা করছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের কাছে ধরনা দিয়ে
পরীক্ষার নম্বর পেয়ে নিচ্ছে। এ ভঙ্গুর অবস্থা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞান কোনো তত্ত্ব নয়। মুখস্থ করে বিজ্ঞান আয়ত্ত করা যায় না। বিজ্ঞানের মূল শক্তি হচ্ছে উদ্ভাবন ও গবেষণা। সারাবিশ্ব আজ নতুন নতুন উদ্ভাবন আর নানা
কিছু আবিস্কার করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের এখন এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আজ এ বিজ্ঞান উৎসবে যারা এসেছ; আগামী দিনে তোমরাই হবে এ দেশের একেকজন বিজ্ঞানী, একেকজন উদ্ভাবক, একেকজন আবিস্কারক। বাংলাদেশে তোমাদের হাত ধরেই হবে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা।
বায়োক্যাম্পে অংশ নিতে আসা চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আহম্মেদ আব্দুল্লাহ জামি সমকালকে
বলে, বিজ্ঞান আসলে মজার বিষয়। এটাকে কেউ
কঠিন ভাবলে তার কাছে আর সহজ হবে না।
বিজ্ঞান হাতে-কলমে শেখা যায় ও আনন্দ পাওয়া
যায়। এ জন্যই পছন্দের বিষয় হিসেবে আমি বিজ্ঞানকে বেছে নিয়েছি।
ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্র মাহবুব মোর্শেদ আবির বলে, বিজ্ঞানের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে অনেক ভালো লাগছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থাকলেই একজন ছাত্র বিজ্ঞানকে সহজে আয়ত্ত করতে পারে।
ময়মনসিংহের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র জুহায়ের ইসলাম সরণ বলে, বিজ্ঞানকে জটিল ভাবলে জটিল, আর সহজ ভাবলে খুবই সহজ। প্রতিযোগিতায় যেন টিকে থাকতে পারি, এ জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
গত ২০ মে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৯শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় ১শ জন। তাদের মধ্য থেকে ২০ শিক্ষার্থীকে অষ্টম জাতীয় বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পর সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ৮ জনকে নিয়ে তিন দিনের অনাবাসিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়ে এখান থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ৪ জনকে চূড়ান্তভাবে আগামী জুলাইয়ে আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড-২০২২ এ পাঠানো হবে।