ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর বিশ্বাঙ্গনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসবের আবাসিক বায়োক্যাম্প। জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সেশন এবং মূল্যায়ন পরীক্ষা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চার দিনব্যাপী জাতীয় বায়োক্যাম্প। সেশনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল এ বছর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের ব্যবহারিক অংশের কথা মাথায় রেখে।
মূল্যায়ন পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে জাতীয় উৎসবে বিজয়ী ২০ শিক্ষার্থী নিয়ে ২৬-৩০ মে অনুষ্ঠিত বায়োক্যাম্প থেকে মোট দশজন মাস্টারক্যাম্পার নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, এবার তারা অংশ নেবে অনাবাসিক ক্যাম্পে। সব বিবেচনায় তাদের মধ্য থেকে জুরিবোর্ড নির্বাচন করবে সেরাদের সেরা চারজন, যারা এ বছর আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইবিও) অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।
২৬ মে সাভারের গণকবাড়ীতে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি মিলনায়তনে শুরু হয় চার দিনব্যাপী অষ্টম জাতীয় বায়োক্যাম্প। ক্যাম্পের উদ্বোধন
করেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন ওই ইনস্টিটিউটের মলিকুলার বায়োটেকনোলজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান কেশব চন্দ্র দাস ও প্রশিক্ষণ বিভাগের কোর্স কোঅর্ডিনেটর হাবিবুন নবী ফরহাদ।
জীববিজ্ঞানে নিজেকে যোগ্য করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ শেষে মাস্টার ক্যাম্পারদের নাম ঘোষণা করা হয় ৩০ মে দুপুরে সমাপনী আয়োজনে। এতে উপস্থিত ছিলেন অ্যানিমেল বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বিডিবিওর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. নিত্যরঞ্জন পাল এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী।
সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে আলফ্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাহসীন শান লিওন, সেন্ট যোসেফ কলেজের খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ এবং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুবাসসেরা সালসাবিল, সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের জুহায়ের মাহদিউল আলম আশফি, স্কলাস্টিকা স্কুলের ফাইয়াদ আহমেদ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এমএম মাহবুব মোরশেদ আবির, নটর ডেম কলেজের ফারজিন আওসাফ জামান, মো. শাদমান সাকিব, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মাহিবুল হক এবং ওয়ার্ডব্রিজ স্কুলের রায়ান রহমান মাস্টার ক্যাম্পার হিসেবে অনাবাসিক ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
ক্যাম্পে মতবিনিময় পর্বে শিক্ষার্থীরা তাদের নানা বিষয় তুলে ধরে এবং এই উৎসব ঘিরে তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আহম্মেদ আব্দুল্লাহ জামি বায়োক্যাম্পে অংশ নিয়ে তার মত প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, বিজ্ঞান আসলে মজার বিষয়। এটাকে কেউ কঠিন ভাবলে তার কাছে আর সহজ হবে না। বিজ্ঞান হাতেকলমে শেখা যায় ও আনন্দ পাওয়া যায়। এ জন্যই পছন্দের বিষয় হিসেবে আমি বিজ্ঞানকে বেছে নিয়েছি।
ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্র মাহবুব মোর্শেদ আবির বলে, বিজ্ঞানের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে অনেক ভালো লাগছে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থাকলেই একজন ছাত্র বিজ্ঞানকে সহজে আয়ত্ত করতে পারে।
২০ মে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিডিবিও-সমকাল জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৯শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয় ১০৫ জন। তাদের মধ্য থেকে ২০ শিক্ষার্থীকে অষ্টম জাতীয় বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়। তাদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণের পর সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ১০ জন অনাবাসিক ক্যাম্পে অংশ নেওয়া সুযোগ পেল।
সহসম্পাদক সমকাল সুহৃদ সমাবেশ