সেই এটুকুন বয়স থেকেই তার আঁকাআঁকি শুরু। ছোটবেলায় একটা মুরগির ছবি এঁকে তো মা-নানুর চোখ কপালে তুলে দিয়েছিলেন নুসরাত জাহান মীম। সেই মীম এখন বাংলায় স্নাতক করছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে। কুমিল্লাতেই তার বসবাস। ছবি আঁকায় প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই তার। তাতে কী, ২০১৯ সালে কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড়ে উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মীম। এ পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি ছবি এঁকেছেন মীম। অনলাইনের সহযোগিতায় ১২ হাজার টাকায় একটি ছবি বিক্রি করে আরেকবার অবাক করে দেন পরিবারের সদস্যদের। এখন তো নিয়মিত ছবি আঁকার অর্ডার আসে মীমের কাছে। মীমের আঁকা ছবি ব্র্যাক এলোরিন আর্ট ইন্টারন্যাশনাল উইন্টার পেস্টেও স্থান করে নিয়েছিল। কুমিল্লা চারুশিল্প আয়োজিত শিল্পকলা একাডেমিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১০০ জন আর্টিস্টের আঁকা ছবি নিয়ে এক্সিবিশন হয়। তাতে অসহায়ত্ব শিরোনামে এক ছবিতে শিশু নির্যাতনের খণ্ড চিত্র তুলে ধরেন মীম। সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য কাজ করেন মীম।
নিজের আঁকা ছবি বিক্রি করে যে টাকা পান তার ৭০ শতাংশই বিলিয়ে দেন। সমাজের অসহায় নারীদের মধ্যে বিতরণ করেন সেলাই মেশিন। তার কাছ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। এ ছাড়া রমজানে ইফতার বিতরণ, ঈদসামগ্রী বিতরণসহ সামাজিক বিভিন্ন কাজে দেখা যায় তার অংশগ্রহণ।
নিজের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে মীম বলেন, 'ছবি আঁকাটা শখের বসেই। তবে এই শখ এখন বলতে পারেন পেশায় পরিণত হয়েছে। তবে ছবি আঁকার টাকা আমি মানুষের জন্য খরচ করি। এতে অন্যরকম এক আনন্দ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফটোগ্রাফিও করি। ভালো লাগে রান্না করতেও।'