কার-ফ্রি স্ট্রিট হিসেবে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় খালি করা হয় বিভিন্ন বয়সীদের খেলাধুলার জন্য। সেখানে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী ছোট বাচ্চাদের বাস্কেটবল শেখায় দেশি বলার্স। কেবল সেই তরুণদের বাস্কেটবলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যারা আগে খেলাটি খেলেনি। কীভাবে ড্রিবল, পাস এবং শট করতে হয়- এমন প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখানো হয় এবং তাদের মা-বাবা কিংবা অভিভাবকদের দেশি বলার্স সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। কেবল তরুণদের জন্যই নয়, ২০১৮ সালে সামার বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে যাত্রা শুরু হয় দেশি বলার্সের। খেলাধুলায় মেয়েরা লিঙ্গ-বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে মেয়ে বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া সংগঠন হিসেবে মনিকা গড়ে তোলেন দেশি বলার্স। মূলত মনিকা এবং আশরিন মৃধা মিলেই এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

২০১৭ সালে মনিকা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন। বর্তমানে মাইএলিস ল্যাবসে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। সেই সঙ্গে জোরেশোরে কাজ করছেন দেশি বলার্সদের নিয়ে। তার লক্ষ্য, দেশের প্রত্যেকটি শহরে বাস্কেটবল ছড়িয়ে দেওয়া। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক প্রচার-প্রচারণায়ও দেখা যায় দেশি বলার্সকে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জামা-কাপড়ের সঙ্গে বাস্কেটবলও দেন তাঁরা। এ ছাড়া সাইবার ক্রাইম, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিনিময় প্রোগ্রাম, করোনাকালে বিভিন্ন কার্যক্রম বুট ক্যাম্প, ওয়ার্কআউট, লাইভ ডিস্কাশনসহ বিভিন্ন কর্মশালাও পরিচালনা করেছে দেশি বলার্স। তাদের সাফল্যের ঝুড়িটাও বেশ ভারী। ২০১৮ সালে তারা ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক একাডেমিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২০ সালে পেয়েছেন জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। ২০২১ সালে নবম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে মহিলা বাস্কেটবলে স্বর্ণপদক জেতেন। ২০২১ সালে আরও অর্জন করেছেন দ্য ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে মনিকা বলেন, 'স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করে খেলাধুলাতেই ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চাই। কেননা দেশে আমাদের প্রতিষ্ঠানের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে।' এ ছাড়াও দেশি বলার্সের মাধ্যমে মেয়েদের খেলাধুলার আরও ব্যাপক সুযোগ তৈরি করতে চান।