দক্ষ বিতার্কিক গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সরকারি তিতুমীর কলেজের বিতর্ক ক্লাব। সর্বপ্রথম ২০১৫ সালে বিতর্ক ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ৭ মার্চ। দীর্ঘ সাত বছরের যাত্রায় অসংখ্য দক্ষ বিতার্কিক গড়ে উঠেছে এই ক্লাব থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের সাত দিনব্যাপী বুনিয়াদি কর্মশালা ২০২২-এর আয়োজন করে ক্লাবটি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ তালাত সুলতানা এবং ক্লাবের মডারেটর সহযোগী অধ্যাপক সালমা বেগম।
কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী। কর্মশালা সম্পর্কে ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মাহাবুব হাসান রিপন বলেন, সরকারি তিতুমীর কলেজ বিতর্ক ক্লাব সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কের পজিটিভ দিক সঞ্চারিত করার চেষ্টা করে থাকে বেসিক ওয়ার্কশপগুলোর মাধ্যমে। কর্মশালায় একজন শিক্ষার্থী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিতর্ক শেখা এবং উপস্থাপন করার কলাকৌশলগুলো শিখে থাকে। যাতে আগামী যে কোনো চ্যালেঞ্জ একজন শিক্ষার্থী খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।
সাত দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালায় তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই একদম নতুন। আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল নবীন বিতার্কিকদের সনাতনী, বারোয়ারি ও সংসদীয় বিতর্কে নিয়মাবলি সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং সর্বোপরি বিতর্কের আদ্যোপান্ত ধারণা দেওয়া। অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থীরা কর্মশালা থেকে কতটুকু শিখতে পেরেছে, সেটি যাচাইয়ের জন্য কর্মশালার শেষ দিন মডেল বিতর্ক ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন বিতর্ক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাকিব। মডেল বিতর্কের বিষয় ধার্য করা হয়েছিল 'এই সংসদ মনে করে, শিল্পায়ন কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।' দারুণ যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে বিরোধী দল মডেল বিতর্কে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলের উপনেতা তাসনুভা ওয়াসিমা বলেন, 'সাত দিনের এই কর্মশালা থেকে বিতর্কের হাতেখড়ি হয়েছে। প্রথমবার সংসদীয় বিতর্কে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী দল হবো, একদমই আশা করিনি।'
মডেল বিতর্কে সেরা বক্তা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন যৌথভাবে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সরকারদলীয় মন্ত্রী মাহমুদা আক্তার শিউলি। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মাহমুদা বলেন, 'প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই বিতর্ক ক্লাবকে যারা আমাকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে সুযোগ করে দিয়েছে। সেরা বক্তা হতে পেরে অনেক বেশি খুশি। একটা সময় ছিল যখন ঠিকমতো কথা গুছিয়ে বলতে পারতাম না। বিতর্ক ক্লাবে আসার পর গুছিয়ে কথা বলার সাহস পেয়েছি-এটিই বড় পাওয়া।'

বিষয় : বিতার্কিক বিতর্ক ক্লাব

মন্তব্য করুন