দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু শিক্ষকদের টার্গেট করে সম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও ক্ষেত্রবিশেষে পক্ষপাতমূলক আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি। 

সোমবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

বিবৃতিতে নড়াইলে একজন সংখ্যালঘু অধ্যক্ষকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পুলিশের উপস্থিতিতে গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রেপ্তার এবং অপর এক সংখ্যালঘু শিক্ষককে ওই অধ্যক্ষকে রক্ষা করার চেষ্টা করার জন্য মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে তারা বলেন, সারাদেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, এটা তারই অংশ। 

নেতারা একই অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন প্রগতিমনা সংখ্যালঘু শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের লেলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার উল্লেখ করে বলেন, এই মহল এখন শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে নিয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, প্রশাসন তো বটেই, দেশের শিক্ষক সমাজও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এই ঘটনাবলিই প্রমাণ করে দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ওয়াজের বয়ানে ও বিভিন্ন মন্তব্যে ভিন্ন ধর্মমত কেবল নয়, স্বধর্মমত বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। 

বিবৃতিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অপরদিকে সকল সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে নিজ অবস্থান থেকে ও ঐক্যবদ্ধভাবে এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানানো হয়। 

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক পৃথক বিবৃতিতে সাভারে পিটিয়ে শিক্ষক হত্যা ও দেশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, এসব ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের বহিঃপ্রকাশ। এসব প্রতিটি অপরাধমূলক ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।