স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে তিন দিনের ন্যাটো সম্মেলন শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। মূল আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে সামরিক ব্যয় বাড়াতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমা এই জোটের মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। তাঁর ভাষায়, আগামীর বিশ্ব ক্রমেই 'অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক' হয়ে উঠছে। একটি বিপজ্জনক বিশ্বে আত্মরক্ষার সামর্থ্য অর্জনে প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। এদিকে ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের মাধ্যমে ন্যাটোকে শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল বুধবার ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাইডেন এ ঘোষণা দেন। খবর বিবিসি, সিএনএন ও আলজাজিরার।

বাইডেন বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন এই জোটের প্রয়োজনীয়তা বেশি। স্থল, আকাশ ও নৌ সব দিক থেকে ন্যাটোকে শক্তিশালী করা হবে। স্পেনের রোটায় মার্কিন নৌবহরে ডেস্টয়ারের সংখ্যা চারটি থেকে বাড়িয়ে ছয়টি করা হবে। পোল্যান্ডে 'ফিফথ আর্মি করপসের' স্থায়ী সদরদপ্তর স্থাপন করা হবে। রোমানিয়ায় একটি অতিরিক্ত ব্রিগেড করা হবে। তিন হাজার যোদ্ধা ও আরও দুই হাজার সেনার এই ব্রিগেড পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবে বলেন বাইডেন।
বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী বাল্টিক দেশগুলোতে পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় বাড়ানো হবে। এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমানের দুটি অতিরিক্ত স্কোয়াড্রন যুক্তরাজ্যে মোতায়েন করা হবে। জার্মানি ও ইতালির জন্য অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য সামর্থ্য বাড়ানো হবে। বাইডেন বলেন, আমরা আমাদের সব মিত্রকে সঙ্গে নিয়ে নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে প্রতিটি ভূখ ঘিরে সব দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটো প্রস্তুত। ন্যাটোপ্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরক্ষার বিষয়ে ন্যাটোর মনোভাবে আকস্মিক 'মৌলিক পরিবর্তন' এনেছে।

সম্মেলনে নেতাদের আলোচনার শীর্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা। মস্কোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া। এই দুটি কাজেই ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আর আর্থিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজন। সামরিক খাতে ন্যাটোর ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ। এই জোটের ৩০ সদস্যের মধ্যে কেবল ৯টি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এই সম্মেলনের আয়োজক স্পেন ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রার কেবল অর্ধেক ব্যয় করছে।

এদিকে ন্যাটোর সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সমর্থন দিতে রাজি হয়েছে তুরস্ক। নরডিক দেশ দুটির ন্যাটোতে যোগদানে আপত্তি জানিয়েছিল আঙ্কারা। কুর্দিদের আশ্রয় দিতে ফিনল্যান্ড-সুইডেনের আগ্রহ নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিল তারা। ওই কুর্দিদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক।

ন্যাটের নীতি অনুযায়ী অন্যতম সদস্য দেশ তুরস্কের সমর্থন ছাড়া বাল্টিক সাগরঘেঁষা দেশ দুটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে পারত না।

অন্যাদিকে ন্যাটোর বৈঠকে এবার প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং সেই প্রেক্ষিতে ন্যাটো এখন কী ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে চীনকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে চীনের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েও কথা হয়। সে জন্যই এশিয়া এবং ওশেনিয়ার দেশগুলোকে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন নারী হলে ইউক্রেন আক্রমণ করতেন না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন বরিস। জার্মানিতে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর জেডডিএফের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে লিঙ্গসমতা ও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বরিস বলেন, বিশ্বে ক্ষমতায় আরও বেশি নারী দরকার। পুতিন যদি নারী হতেন, তাহলে এভাবে উন্মত্ত পৌরুষপূর্ণ একটি যুদ্ধ ও সহিংসতা শুরু করতেন বলে তিনি সত্যিই মনে করেন না।