নেপাল, মালদ্বীপসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই আমার যাওয়া হয়েছে। নতুন কোনো দেশে প্রথম ভ্রমণ মানেই অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা। জীবনে অসংখ্যবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। প্রথম সব তুলনাহীন। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন নতুন মানুষ- সব মিলিয়ে অন্য রকম এক ভালো লাগা। যেজন্য প্রথম কোনো দেশে যাওয়ার আগে চেষ্টা করি সে দেশ সম্পর্কে জানতে। জানতে চেষ্টা করি সেখানকার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে। সঙ্গে সুন্দর স্থানগুলোর ঠিকানা ও তা সম্পর্কে জানতেও ভুল করি না। এরপর সেখানে পা রাখার পর স্থানীয় মানুষের কাছেও দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা হয়। অভিনয় ক্যারিয়ারে কখনও যুক্তরাজ্যে যাওয়া হয়নি। সেই সুযোগ এলো পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান নির্মাতা অতনু ঘোষের 'আরও এক পৃথিবী' ছবিতে কাজের সুবাদে। সম্প্রতি লন্ডন ঘুরে এলাম। টানা তিন সপ্তাহ সেখানে চলে ছবির দৃশ্য ধারণ। লন্ডন শহর, পূর্ব লন্ডন, পশ্চিম লন্ডনের ইলিংসহ প্রায় ৩৭টি লোকেশনে কাজ করেছি। যেজন্য লন্ডন দেখার জন্য আলাদাভাবে সময় বের করতে হয়নি। টানা দৃশ্য ধারণের কারণে খুব একটা ঘোরাঘুরির সময় পাইনি।
জীবনে প্রথমবার লন্ডনে এসেছি। নিজের মতো করে একটু না ঘুরলে কী চলে! সব মিলিয়ে তিন দিন ছুটি পেয়েছিলাম। ওই সময় ব্রিটিশ মিউজিয়াম, অক্সফোর্ড, ইলিংসহ সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরেছি। বলা যেতে পারে, একাই লন্ডনের কিছু স্থান চষে বেড়িয়েছি। নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও রঙিন করতে দুটি থিয়েটারও দেখেছি। পরিচিতজনের অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, এবারকার যুক্তরাজ্য সফরে কোন স্থানটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে? তাঁদের কাছে হিলিংয়ের কথাই বলেছি। এই জায়গায় সুন্দর একটি পার্ক আছে। সবাই ঘুরতে আসেন। সেখানকার মানুষজন অনেক ভালো, বন্ধুত্বপরায়ণ। তাঁদের জীবনযাত্রা অন্যরকম। দিনের তুলনায় রাতে এ শহরের সৌন্দর্য বেড়ে যায় কয়েক গুণ। শহরে প্রথম কেউ পা রাখলে রীতিমতো আশ্চর্য হবেন। জায়গাটি এত সুন্দর, সেখানে বারবারই যেতে মন চাইবে। জীবনে সুন্দর মুহূর্তগুলো ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ভীষণ আনন্দ পাই। যেজন্য লন্ডন ভ্রমণের সময় তোলা কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছি। সেই ছবিতে মন্তব্য করেছেন অনেকেই, যা আমাকে অন্যরকম ভালো লাগায় ভরিয়ে দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ে গিয়ে এত সুন্দর সময় কাটাতে পারব তা কখনও ভাবিনি। কারণ, যে ছবির কাজে আমি লন্ডনে গিয়েছিলাম, এটি ছিল আমার প্রথম ছবি। চরিত্রটির জন্য দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছি। ক্যামেরার সামনে চরিত্রটি ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারব কিনা তা নিয়ে ভয় ছিল। এখানে আমার অভিনীত চরিত্রের নাম 'প্রতীক্ষা'। সে একটি বিশেষ কাজে প্রথমবার লন্ডনে যায়। যেহেতু প্রতীক্ষার মতো আমারও লন্ডনে প্রথম সফর ছিল, তাই চরিত্রটির সঙ্গে মিশে যাওয়া সহজ হয়েছে। দেশের বাইরে কোনো জায়গায় গেলে সেখানকার স্থানীয় খাবার খেতে খুব মন চায়। তাই তো প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও লন্ডনের দোকানে আইসক্রিম দেখে খাওয়ার লোভ সংবরণ করতে পারিনি। ঠান্ডার কারণে আইসক্রিম কিনেও খেতে পারছি না, আবার ফেলতেও মন চাচ্ছিল না। এ নিয়ে পুরো ইউনিটের সবার সঙ্গে রসিকতাও কম হয়নি। সুন্দর সময় খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। ভালো টিমের সঙ্গে কাজ করেছি বলে সময় যে কখন ফুরালো তা টেরই পাইনি।
ব্যস্ততা কখনও আমাকে দেয় না অবসর। ভেবেছিলাম দেশে এসে একটু বিশ্রামে যাব। কিন্তু সে ফুরসত কই! শুটিংয়ের ব্যস্ততায় সে সুযোগ আর পাইনি। বিদেশেই যে কেবল সুন্দর সুন্দর স্থান রয়েছে, তা কিন্তু নয়। দেশেও অনেক ভ্রমণের জায়গা রয়েছে। কক্সবাজার আমার প্রিয়। সেখানে গেলে দু'চোখ ভরে দেখি সীমাহীন জলরাশি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত আমাদের দেশে- এটা ভাবতেও খুব ভালো লাগে। কতবার কক্সবাজার গেছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক এটা সত্য, যত দেশেই গেছি, নিজ দেশ ভ্রমণের মতো আনন্দ কোথাও পাইনি।