স্প্যানিশ লেখক ক্রিস্টিনা মোরালেস তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'ইজি রিডিং'-এর জন্য জার্মানির আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার জিতেছেন। ওই উপন্যাসে চারজন প্রতিবন্ধী নারীকে শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও আত্মমর্যাদার জন্য লড়াই করতে দেখা যায়। উপন্যাসটি একইসঙ্গে পাঠককে ক্রোধান্বিত করবে এবং এর সঙ্গে সংযুক্তও করবে। বার্সেলোনায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাগ করে থাকা চার প্রতিবন্ধী নারীর জীবন গভীর পর্যবেক্ষণে লেখক এ উপন্যাসে তুলে এনেছেন। বিভিন্ন বর্ণনামূলক অভিব্যক্তি, সাক্ষাৎকার এবং আদালতের প্রতিলিপি থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ- এ সবকিছু মিলে গড়ে উঠেছে এক উপন্যাস। মোরালেস ও তাঁর অনুবাদক ফ্রেদেরিক ফন ক্রিগার্ন এ সপ্তাহে উপন্যাসটির জন্য আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার জিতেছেন। সারাবিশ্বের ব্যতিক্রমী সমসাময়িক সাহিত্য এবং জার্মান ভাষায় শিল্পসম্মত অনুবাদের জন্য এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়। পুরস্কারের অর্থ লেখকের জন্য ২০ হাজার ইউরো এবং অনুবাদকের জন্য ১৫ হাজার ইউরো।
মোরালেসের উপন্যাসটি কেবল আতঙ্কের নয়, বর্ণনাটি বিশেষভাবে নাটকীয়ও নয়। সূত্রধরের আবেগ পুরো গল্পে বহন করে। চার নারী নাটি, প্যাট্রিসিয়া, অ্যাঞ্জেলস ও মার্গাকে মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়; কিন্তু তাঁরা বিদ্রোহী এবং আবেগপ্রবণও। প্রতিবন্ধীদের পরিচালনা একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তাঁদের সামনে আরও তীব্রভাবে ফুটে ওঠে। নাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়। আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে তাঁরা মানুষ, প্রতিষ্ঠান, এমনকি সহিংসতারও মুখোমুখি হয়।
'ইজি রিডিং'-এর একটি আকর্ষক সংলাপ পাঠকের মনোযোগ টেনে নেবে নিশ্চিতভাবেই। এক দৃশ্যে অ্যাঞ্জেলস বিচারককে বলেন যে, কীভাবে সহজ ভাষা মানুষের জন্য যোগাযোগকে সহজ করে তোলে, অথচ আদালতের ভাষ্য সর্বদা জটিলভাবে ব্যাখ্যা করে। তিনি যোগ করেন যে, যাঁরা পড়তে পারেন, এটি কেবল তাঁদের বিষয় না; বরং মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত সংস্কৃতি, তথ্য এবং যোগাযোগের সর্বজনীন অধিকার।