কিলোক্যালরি :প্রথম তিন মাস : ২০০০+১৫০। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তিন মাস : ২০০০+৩৫০।

প্রোটিন (গ্রাম) : ৪০+১৪। ক্যালসিয়াম (মি.গ্রা) ৪৫০+৬৫০। আয়রন (মি.গ্রা.) ২৮+৫। ভিটা-বি-১ (মি.গ্রা.) ১.০+০.১। ভিটা বি-২ (মি.গ্রা.) ১.১+০.২। নায়াসিন (মি.গ্রা.) ১৩.২+১.৯। ভিটা সি (মি.গ্রা.) ৩০+২০। ভিটা-ডি (মাইক্রো) ২.৫+৭.৫। ফলিক অ্যাসিড (মাইক্রো) ২০০+২০০।

প্রোটিন :গর্ভাবস্থায় শরীরে প্রোটিনের চাহিদা বেড়ে যায় পায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে যে পরিমাণ প্রোটিনের দরকার, এই সময় তা বেড়ে যায় অনেকটা। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অতিরিক্ত ১৪ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত একটি ডিম, এক বাটি ডাল বা শিমের দানা অথবা এক ঠোঙা বাদাম গর্ভাবস্থায় এ অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

ক্যালসিয়াম :স্বাভাবিক অবস্থায় যতটুকু ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন, গর্ভাবস্থায় এর প্রয়োজন বেড়ে যায় প্রায় ২০০ মিলিগ্রামের মতো। দুধ, দই, পনির থেকেই এ অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করা যায়। এ ছাড়া সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, মাছ এবং সামুদ্রিক খাবার যেমন স্যামন, চিংড়ি এবং ক্যাটফিশ ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করতে পারে।

আয়রন :আয়রন রক্ত প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করে এবং মা এবং শিশুর উভয়কেই পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে সহায়তা করে। আয়রনের সবচেয়ে ভালো উৎস 'রেড মিট'। এ ছাড়া কচুতেও প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়। সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, সাইট্রাস ফল, হাঁস-মুরগির ডিমেও প্রচুর পরিমাণে আয়রন মেলে।

ফলিক অ্যাসিড :স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডের প্রয়োজন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়। শিশুদেহের বিকাশে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুকনো মটরশুঁটি, মসুর ডাল, ডিম, বাদাম এবং মাখন জাতীয় খাবার ফলিক অ্যাসিডের বড় উৎস।

ভিটামিন :ভিটামিন-বি পরিবারভুক্ত ছয়টি ভিটামিনের মধ্যে গর্ভাবস্থায় চাহিদা বেড়ে যায় ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন, বি-২ বা রিবোফ্লাবিন ও বি-৩ বা নায়াসিনের। গরুর মাংস, কলিজা, ডিম, কলা, বিনস, পালংশাক, কাঠবাদাম ও দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

গর্ভের শিশুর মাংসপেশি ও হাড় গঠনে কোলাজেন প্রোটিনের প্রয়োজন। ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে। আবার আয়রন শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি'র প্রয়োজন। এ জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদরা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু বা আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গর্ভাবস্থায় তা যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া জরুরি।

ভিটামিন ডি মায়ের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের সুষম ব্যালান্স শিশুর হাড় ও দাঁত তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় ডিম, দুধ, পনির, দই ও ছোট মাছ খাওয়া দরকার। সেই সঙ্গে সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালের রোদে কিছুক্ষণ থাকতে হবে, যা ভিটামিন ডি'র সবচেয়ে বড় উৎস।

লেখক :সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ,
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ

বিষয় : গর্ভাবস্থায় পুষ্টি

মন্তব্য করুন