আশরাফ সিদ্দিকী ছিলেন একজন বাঙালি কবি, কথাসাহিত্যিক, লোকগবেষক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেছেন যেসব সাহিত্যিক, আশরাফ সিদ্দিকী তাঁদের একজন। তিনি পাঁচশরও অধিক কবিতা রচনা করেছেন। গভীর গবেষণা করেছেন বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে।
আশরাফ সিদ্দিকী ১৯২৭ সালের ১ মার্চ তাঁর নানাবাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তার সিদ্দিকী ছিলেন একজন শৌখিন হোমিও চিকিৎসক এবং ইউনিয়ন পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। আর মা সমীরণ নেসা ছিলেন স্বভাব কবি।
সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালে আশরাফ সিদ্দিকীর কবিতা স্বগত ও পূর্বাশা সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ সময় তিনি কিছু আঞ্চলিক বাংলা ধাঁধা সংগ্রহ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাঠান। রবীন্দ্রনাথ এর প্রশংসা করেন। এর কিছুদিন পর তিনি শান্তিনিকেতনে পড়ার জন্য ভারতে চলে যান। ১৯৪৭ সালে শান্তিনিকেতনে বাংলায় অনার্স পড়াকালে দেশ বিভাগ হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
দেশ বিভাগের পর অভাবের তাড়নায় এক স্কুলশিক্ষক তাঁর পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনা তাঁকে নাড়া দেয় এবং তাঁর সাহিত্য রচনার প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি লেখেন 'তালেব মাস্টার' নামে একটি কবিতা, যা ১৯৫০ সালে তালেব মাস্টার ও অন্যান্য কবিতা কাব্যসংকলনে স্থান পায়। এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'সাত ভাই চম্পা', 'বিষকন্যা' ও 'উত্তরের তারা'। ১৯৬৫ সালে 'রাবেয়া আপা' নামক গল্প দিয়ে তিনি গল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু 'গলির ধারের ছেলেটি' তাঁকে গল্পকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এ গল্প অবলম্বনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'ডুমুরের ফুল' চলচ্চিত্রটি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকসাহিত্য বিষয়ে পড়াকালে তিনি রচনা করেন শিশুতোষ সাহিত্য 'সিংহের মামা ভোম্বল দাস'; যা ১১টি ভাষায় অনূদিত হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের লোকসাহিত্য নিয়ে লেখেন লোকসাহিত্য প্রথম খণ্ড। এরই ধারাবাহিকতায় 'কিংবদন্তির বাংলা', 'শুভ নববর্ষ', 'লোকায়ত বাংলা', 'আবহমান বাংলা', 'বাংলার মুখ' বইগুলো প্রকাশিত হয়। ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে শোনা রূপকথার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯১ সালে লিখেন 'বাংলাদেশের রূপকথা' নামক বইটি।
আশরাফ সিদ্দিকীর কাব্যগ্রন্থগুলো- 'তালেব মাস্টার ও অন্যান্য কবিতা', 'সাত ভাই চম্পা', 'বিষকন্যা', 'উত্তরের তারা', 'বৃক্ষ দাও, ছায়া দাও', 'দাঁড়াও পথিক বর', 'সহস্র মুখের ভিড়ে'। গল্পগ্রন্থ- 'রাবেয়া আপা', 'গলির ধারের ছেলেটি' ও 'শেষ নালিশ'। উপন্যাস- 'শেষ কথা কে বলবে', 'আরশীনগর' ও 'গুনীন'।
তাঁর লোকসাহিত্য রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- 'লোকসাহিত্য', 'রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন', 'কিংবদন্তির বাংলা', 'শুভ নববর্ষ', 'লোকায়ত বাংলা', 'আবহমান বাংলা', 'বাংলার মুখ', 'প্যারিস সুন্দরী', 'বাংলাদেশের রূপকথা'। এ ছাড়া শিশুসাহিত্যে বেশ কিছু অসামান্য সৃষ্টি রয়েছে আশরাফ সিদ্দিকীর।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
প্রশ্ন
১। 'অসি বাজে ঝনঝন' আশরাফ সিদ্দিকীর কোন ধরনের রচনা?
২। তাঁর প্রথম ছোটগল্প কোনটি?
৩। তাঁর প্রথম কবিতার নাম কী?
কুইজ ৬২-এর উত্তর
১। গল্পগ্রন্থ
২। মুর্তজা বশীর
৩। আঙ্গুর

কুইজ ৬২-এর জয়ী
আব্দুর রশীদ শাওন
শান্তিনগর, ঢাকা

প্রশান্ত হাওলাদার
কেরানীগঞ্জ
নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ২৫ জুলাই সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।

বিষয় : আশরাফ সিদ্দিকী

মন্তব্য করুন