ভ্যাপসা গরমের দুপুর। এই গরমে টিলার নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলো বাঘ। একেবারে হাত-পা ছেড়ে শুয়ে ছিলো বাঘটি। ঝুপড়ি আকাশমনি গাছটার ছায়ায়। সকাল থেকে কোনো শিকার পায়নি, তাই পেটেও রাজ্যের ক্ষুধা। হঠাৎ সে মনে মনে ভাবলো, এভাবে শুয়ে থাকা যায় না; খাবার খুঁজতে বের হতে হবে।

টিলার ওপর থেকে নিচের দিকে ছুটে আসছিলো এক শিয়াল। নাদুসনুদুস, ছোট্টমোট্ট শিয়াল। এখনও শৈশব পেরোয়নি হয়তো! আনমনে ছুটছিলো সে; তাই নিচে বিশ্রামে থাকা বাঘকে দেখতে পায়নি। পড়বি তো পড়, একেবারে বাঘের লেজের কাছেই! বাঘের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই ভয়ে একেবারে জড়োসড়ো শিয়াল ছানা।

মেঘ না চাইতেই যেন বৃষ্টি। বাঘ ডান হাতের নখ দিয়ে ভীষণ জোরে এক থাবায় আটকে ধরলো শিয়াল ছানার মাথা। খুশিতে মিচমিচিয়ে হাসতেও শুরু করলো বাঘ। চিউচিউ করতে করতে এবার বলতে শুরু করল শিয়াল ছানা, 'বাঘ মামা, বাঘ মামা আপনার কছেই তো যাচ্ছিলাম।'

'আমার কাছে?' যেন অবাক হলো বাঘ।

'হ্যাঁ, আপনার কাছেই। এ জন্যই তো ছুটছি, দেখুন না কেমন হাঁফিয়ে উঠেছি।'

'ও তাই? তা কী জন্য আমাকে খুঁজছিস?' শিয়ালের ওপর থেকে এবার থাবা উঠিয়ে নিলো বাঘ।

শিয়ালের বুদ্ধি বলে কথা! ওর দাদুও নাকি ছিলো বিশাল পণ্ডিত। এবার ফন্দি আঁটতে শুরু করল শিয়াল ছানা। ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে শুরু করলো, 'আপনার জন্য খরগোশের খোঁজ নিয়ে এসেছি। অনেক খরগোশ। খুব নাদুসনুদুস।'

'তাই?' খরগোশের কথা শুনে বাঘের জিহ্বায় যেন লালা এসে পড়লো।

'হ্যাঁ, ঠিক তাই। আমি ভাবলাম এতো সুন্দর খাবার, বাঘ মামাকে না জানালে হয়!'

'তা কোথায় সে খরগোশ?'

'হ্যাঁ হ্যাঁ, তাহলে দ্রুত চলুন আমার সঙ্গে।' বাঘকে পথ দেখিয়ে চলতে শুরু করলো শিয়াল ছানা। চলতে চলতে রাজ্যের কথা শিয়াল ছানার। বলে, 'বাঘ মামা, আমরা যাচ্ছি খরগোশের ডেরায়। ছোট্ট এক টিলার গোড়ার গর্তে থাকে ওরা। আপনি একটু আড়ালে থাকবেন, আমি ডেরায় ঢুকে ওদের তাড়িয়ে নিয়ে আসবো। আপনি তখন একে একে ওদের ধরে নেবেন।' শিয়াল ছানার কথায় মাথা নাড়ে বাঘ।

এই বলে শিয়াল ছানা পরিচিত এক টিলার কাছে এসে থামলো। বাঘকে বললো, 'মামা, আপনি থাকুন এখানে। আমি এক্ষুনি ওদের নিয়ে আসছি।' ছোট্ট এক গর্তের মুখ দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো সে। বাইরে অপেক্ষায় বাঘ। বিকেল হতে চললো, তবু আর গর্ত থেকে ফিরে আসে না শিয়াল ছানা।

বুঝতে পারলো বাঘ, সে তাকে ঠকিয়েছে। টিলার চারপাশটা একবার ঘুরলো বাঘ। শেয়াল ছানার ঢুকে পড়া সুড়ঙ্গপথের মুখ আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়েছে। শিয়াল ছানা তাহলে পালিয়েছে! এতক্ষণে সে নিশ্চয়ই তার বাসায় ঘুমাচ্ছে। বিড়বিড় করে বললো বাঘ, বেশি লাভের আশায় হাতে পাওয়া অল্প ছাড়তে নেই। খুব ভুল হয়েছে আজ। তাই অভুক্ত শরীর নিয়েই হাঁটতে থাকলো বাঘ!