আগামীকাল ঈদ, অনেক স্বপ্ন আর প্রত্যাশার যাত্রা হলেও অনেকটা বিষণ্ণ মন নিয়ে ঈদের আগের দিন ৯ জুলাই রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাই আমরা। উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ। তবে অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। আমাদের ফ্লাইটটির নাকি কোনো অস্তিত্বই নেই! অনেককে জিজ্ঞেস করে যখন কিছু জানা গেল না, তখন বাধ্য হয়ে গভীর রাতে আমরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেলাম।

যাক, অন্তত ঈদটা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পেরেছি। তবে ঈদের দিন রাতে আমরা আবার বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইটটি ধরতে পারি। শেষমেশ আমরা ইয়েরেভানে পৌঁছাই ১১ তারিখ। একদিন দেরি হওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাইনি, এটা কিছুটা বেদনা দিলেও সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সুস্থভাবে বিশাল এ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে। জীবনে প্রথমবার দেশের বাইরে এসেছি, তাও আবার আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের একজন প্রতিযোগী হয়ে, ব্যাপারটা ভাবতেই অবাক লাগছিল।

আগের এক সপ্তাহে এলোমেলোভাবে ব্যবহারিক অনুশীলনগুলো করতে করতে আমরা সবাই খুবই ক্লান্ত ছিলাম। তারপরও লম্বা যাত্রার পর আমরা প্রস্তুতি নিই ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য। পরের দিনই পরীক্ষা হওয়ার কথা, তবে সেদিন সারাদিন অপেক্ষা করার পর জানতে পারলাম, পরীক্ষা এক দিন পিছিয়েছে। সেই ক্লান্ত শরীরেই আমরা ইয়েরেভানের আশপাশে দর্শনীয় স্থান দেখতে বের হই। অনেক রাতে আমরা হোটেলে ফিরে পরীক্ষা দিতে হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষার পরের দিনই ছিল তাত্ত্বিক পরীক্ষা। সব শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন। দলের সবার ক্লান্তি নিমেষেই হারিয়ে যায়, যখন ঘোষণায় আসে আমাদের নাম। এ এক অনন্য ভালো লাগার দিন।