সাদা ও হালকা রঙের পোশাকের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। এ ধরনের পোশাক পরলে গরম কম অনুভূত হয়। হালকা রঙের পাশাপাশি কিছু উজ্জ্বল রংও এক প্রকারের স্নিগ্ধতা এনে দেয়। লিখেছেন রিক্তা রিচি

ঘর থেকে দুই পা বাড়াতেই কড়া রোদের তাপে একেবারে ঘেমে গেছেন। ভীষণ অস্বস্তিতে পড়বেন নিশ্চয়। তার ওপর যদি পরনে থাকে খসখসে, ভারী কিংবা জর্জেট কাপড় তাহলে মেজাজ চরমে উঠবে- এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এ ঋতুতে আকাশের মতিগতি বোঝা খুব কষ্টের। শ্রাবণের আকাশটা এক বেলায় হাসে তো অন্য বেলায় কাঁদে। এ সময় ফুরফুরে মেজাজে থাকতে বেছে নিতে পারেন সুতি পোশাক। গরমে ঘামলে সুতি পোশাক ঘাম শোষণ করে আপনাকে স্বস্তি দেবে। দেবে আরাম।

এই আবহাওয়াকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন হাউসগুলোও নিয়ে এসেছে হালকা রঙের বাহারি পোশাক। নিয়ে এসেছে গাঢ় রঙের পোশাকও। হালকা ও গাঢ় রঙের সংমিশ্রণে কোনো কোনো ফ্যাশন হাউস পোশাকে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছে।

গরমে পরার জন্য রঙ বাংলাদেশ, সারা, অঞ্জন'স, দেশালসহ অন্যান্য ব্র্যান্ড মেয়েদের জন্য নিয়ে এসেছে সালোয়ার-কামিজ, টপস, কাফতান, এ লাইন ফ্রক, থ্রিপিস, লনের থ্রিপিস ইত্যাদি। বাচ্চাদের জন্য নিয়ে এসেছে নিমা সেট, ফ্রক, টপস, ফতুয়া, কাতুয়া ইত্যাদি।

ক্লাস, অফিস, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা বেড়াতে গেলে সুতিই হতে পারে একমাত্র ভরসা। সুতি সালোয়ার-কামিজ, কাফতান, কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, টপস, শার্ট, ফতুয়া, টিউনিক, কটি, টি-শার্ট ইত্যাদি আপনাকে আরাম দেবে। ক্লাস ও অফিস করার জন্য আপনি বেছে নিতে পারেন সাদা, হালকা নীল, হালকা গোলাপি, ঘিয়ে, অফ হোয়াইট রং। কোনো পার্টিতে গেলে বেছে নিতে পারেন মেজেন্টা, বেগুনি ও উজ্জ্বল রঙের পোশাক।

সাদা ও অফ হোয়াইটের প্রাধান্য
সাদা রং স্নিগ্ধতায় ভরপুর। অফ হোয়াইট রঙে সাদার মতো অতটা স্নিগ্ধতা না থাকলেও, এটি অনেকটা স্বস্তি দেয়। সাদা রঙের সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তি ও সালোয়ার-কামিজের প্রিন্ট কিংবা নকশার সঙ্গে মিলিয়ে অন্য যে কোনো হালকা রঙের ওড়না ব্যবহার করতে পারেন। সাদা প্যান্ট, ল্যাগিংস কিংবা পালাজ্জোর সঙ্গে পরতে পারেন পছন্দের কুর্তি কিংবা কামিজ। চাইলে সাদা টপসের সঙ্গে পরতে পারেন সাদা, আকাশি কিংবা নীল রঙের সারারা, হারেম প্যান্ট কিংবা পাতিওয়ালা সালোয়ার।

অন্যান্য হালকা রঙে স্নিগ্ধতা
হালকা বেগুনি, হালকা গোলাপি, হালকা নীল, সবুজ, টিয়া, লেমন ও জলপাই রঙের পোশাক মনের পাশাপাশি চোখেও আরাম দেবে। এই রঙের পোশাকে গরম অপেক্ষাকৃত কম লাগে। কারণ হালকা রঙের পোশাক তাপ কম শোষণ করে।

কাপড়ের ধরন, নকশা ও প্যাটার্ন
রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস জানান, এই ঋতুর পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে কটন, স্লাব কটন, এন্ডি কটন, লিনেন ইত্যাদি। মূল রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অ্যাশ, লাইট ব্রাউন, মেরুন, সাদা, মিন্ট, লাল, পিংক, পিচ, গাঢ় নীল, মেজেন্টা, হালকা গোলাপি, হালকা নীল, পার্পেল, সাদা ইত্যাদি।
রঙ বাংলাদেশের পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, ড্রাই ও কাটিং অ্যান্ড সুইং ইত্যাদি। পোশাকের ডিজাইনে ব্যবহার করা হয়েছে জ্যামিতিক, ফুলেলসহ বিভিন্ন ধরনের মোটিফ- জানান সৌমিক দাস।
পোশাকে বিভিন্ন ট্রেন্ডি প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে। তরুণীদের কুর্তি, সালোয়ার-কামিজে দেশীয় ও পশ্চিমা ট্রেন্ড তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও সালোয়ার-কামিজের প্যাটার্ন, কাটিংয়ে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছে ব্র্যান্ডগুলো।

সুতির সঙ্গে যেমন গহনা
রোজকার ক্লাস, অফিস ও বাইরে চলাচলের জন্য সুতি পোশাকের সঙ্গে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিল রেখে বেছে নিতে পারেন এক পাথরের ছোট টপ, গলার চেন কিংবা মালা, কাঠের চুড়ি ইত্যাদি। পরতে পারেন ডায়মন্ড কার্ট অথবা মেটালের ছোট দুল। সুতি সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন কাঠের কানের দুল, মালা ইত্যাদি। হাতে পরতে পারেন কাঠ কিংবা সুতার চুড়ি। কুর্তির সঙ্গে গলায় ঝোলাতে পারেন প্যাঁচা কিংবা পছন্দের আকৃতির পেনডেন্ট। রেজিনের গহনাও মানিয়ে যাবে টপস, কামিজ ও কুর্তির সঙ্গে। া

বিষয় : সুতি পোশাক

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন