ব্যাংককের রাস্তার পাশেই আছে বড় বড় মাছ, মাংসের গ্রিলসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার। গুলিবার্ডস এরিয়াতে আছে থাই, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি রেস্টুরেন্ট। দেশটির মাহানাখন টাওয়ার এবং অন্যান্য সৌন্দর্য্য নিয়ে লিখেছেন লিনা সারোয়ার

কাজবাজ, সংসার, সব সামলে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। ক্লান্ত মন, চোখকে প্রশান্ত করতে একদিন পরিবার নিয়ে ঢুঁ মেরেছি। চলে গিয়েছি বিদেশ বিভুঁইয়ে। গিয়েছি অর্কিডের রাজ্য থাইল্যান্ডের কিছু শহর ঘুরে দেখার জন্য।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুপুর ১টার ফ্লাইটে রওনা দিয়ে ২ ঘণ্টার মধ্যে থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্টে পৌঁছলাম। বিমান থেকে নেমে ইমিগ্রেশন শেষ করে গাড়ি ভাড়া করে ব্যাংককে হায়াত রিজেন্সি হোটেলে উঠলাম।

হোটেল রুমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বের হলাম ভূরিভোজের আশায়। সামনেই গুলিবার্ডস এরিয়া, সেখানে কিছু থাই, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি রেস্টুরেন্ট আছে। আছে হরেক রকম মজার খাবার, রাস্তার দু'পাশে ভ্যান গাড়িতে সারি সারি করে সাজানো আছে বিভিন্ন সুস্বাদু ফল। আছে স্ট্রিট ফুড। হ্যাঁ, রাস্তার খাবার; যা সত্যিই চমৎকার ও মজাদার। রাস্তার চারপাশে এত মজাদার খাবার সাজানো আছে, যার স্বাদ না নিয়ে চলে গেলে মনে হবে যে, থাইল্যান্ড এসে নিজের জিহ্বাকে বন্দি করে রেখে দিলাম। রাস্তার পাশেই আছে বড় বড় মাছ, মাংসের গ্রিল, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী এবং বিশেষ কিছু খাবার।

রাতের খাবার পর্ব শেষ করে আরেকটু বাইরে ঘোরাঘুরি করে হাঁটতে হাঁটতে হোটেলে এসে পৌঁছলাম। সকালে আবার রওনা দিলাম ব্যাংককের কিং পাওয়ার মাহানাখন টাওয়ার বা স্কাই বিল্ডিং দেখার উদ্দেশ্যে; যা ৭৮ তলার একটা বিল্ডিং, সেখানে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে বিল্ডিংয়ের ওপরতলার এবং ছাদের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। লিফটে ওঠার সময় সেই শহরের বিভিন্ন স্থাপনার ভিডিও কয়েক মিনিট দেখানো হয়। তারপর সবচেয়ে ওপরের তলা অর্থাৎ ৭৮তম ফ্লোর থেকে পুরো ব্যাংকক শহরের ভিউ সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়।

সেখানে গিয়ে আনন্দে আমার মন নেচে উঠল। হাত বাড়াতেই আকাশছোঁয়ার আনন্দ অনুভূত হলো। এখানে দাঁড়িয়ে, চোখ যতদূর যায় শুধু দেখা যায় বড় বড় অট্টালিকা, পাহাড়, নদী এবং অসংখ্য স্থাপনা। আকাশের দিকে তাকাতেই মনে হলো দূরের আকাশটা আমার খুব কাছে।

আরও একটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো ছাদের একপাশে সম্পূর্ণ গ্লাস লাগানো, যা বাইরের দিকে অনেকটুকু বাড়ানো। সেখান থেকে নিচের সব বড় বিল্ডিংকে মনে হয় আমাদের পায়ের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ করে নিচে তাকালে খুবই ভয় পেয়ে পড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। মনে হবে এখনই বুঝি আমি খালি জায়গা থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছি। কখনও সেখানে বেড়াতে গেলে মন থেকে সাহসী না হলে ভুলেও সেখানে পা দেবেন না।

যাই হোক, তারপর সেখানে ঘোরাঘুরি শেষ করে রওনা হলাম রিভার সিটিসংলগ্ন আইকন সিয়ামে, সেখানে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটালাম। আইকন সিয়াম একটা অভিজাত শপিংমল এবং তার সঙ্গে রয়েছে বিনোদনের জন্য বড় একটা পার্ক। পার্কে বিভিন্ন ডাইনোসরের স্বয়ংক্রিয় মূর্তি বানিয়ে পরিবেশকে

প্রাগৈতিহাসিক যুগের পরিবেশ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা থেকে সবাই ডাইনোসরদের কাল্পনিক জীবন সরাসরি দেখার কিছুটা অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। সিয়াম আইকন শপিংমলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ফ্রায়া নামক একটি নদী। যে নদীর উভয় পাশে আছে সুউচ্চ অট্টালিকার সারি। শোভা বহুগুণে বাড়িয়েছে সেসব অট্টালিকা।

সব কিছু দেখে, শপিং সেরে রওনা দিলাম আবার হোটেলের উদ্দেশে। এভাবে আমাদের সাত দিনের থাইল্যান্ড ভ্রমণের একটা দিন সুন্দরভাবে কাটল।
থাইল্যান্ডে বছরে ৩৫ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। সবচেয়ে আইকনিক আকর্ষণীয় জায়গার মধ্যে রয়েছে- পাতায়া বিচ, অনেক দ্বীপ, দেশজুড়ে একচল্লিশ হাজার মন্দির, দামি, কম দামি সব ধরনের জিনিস কেনার জন্য উপযুক্ত জায়গা ইত্যাদি। সময় পেলে একবার হলেও সপরিবারে ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই দেশ থেকে। া