এ সময়ে জুতা ছাড়া একদিনও চলে না আমাদের। অথচ এমন একটা সময় ছিল, যখন জুতা ছিল না। খালি পায়েই চলত মানুষ। পা সুরক্ষিত রেখে স্বচ্ছন্দে হাঁটার জন্য যে জুতার উৎপত্তি, তা নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায়। অনেক পরে এতে লেগেছে আভিজাত্য ও ফ্যাশনের ছোঁয়া। ইতিহাসে জুতা নিয়ে রয়েছে বহু মজার ও অবাক করা তথ্য। এমন কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো-

১. মানুষের আঁকা প্রথম যে ছবির নিদর্শন পাওয়া গেছে, তাতেই জুতার প্রথম নমুনা পাওয়া যায়। তাই জুতা আবিস্কারের বয়স নির্ণয় প্রায় অসম্ভব।
২. প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় উচ্চশ্রেণির মানুষ খড়ের স্যান্ডেল পরতেন। সময়টা খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ সালের দিকে।
৩. প্রাচীন গ্রিক সভ্যতায় নারীরা সাধারণত খালি পায়ে থাকতেন অথবা স্যান্ডেল পরতেন। ঘরের ভেতর তাঁরা নরম পাতায় ঢাকা জুতা পরতেন।
৪. হেলেনীয় যুগে জুতা হয়ে ওঠে বিলাসপণ্য। বিভিন্ন রূপ নিয়েছিল জুতা। খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতকে গ্রিক প্রভাবে লাল বা সাদা রঙের নকশা করা ও উঁচু হিলের জুতার প্রচলন হয়।
৫. প্রাচীন অলিম্পিকে প্রতিযোগীরা খালি পায়ে খেলায় অংশ নিতেন।
৬. রোমান শাসক জুলিয়াস সিজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরতেন স্বর্ণের সোলের বুট। এটি বুড়ো আঙুল থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা এবং ফিতা দিয়ে বাঁধা থাকত। তবে পায়ের আঙুল খোলাই থাকত।
৭. জুতার মাপ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটেন থেকে। ১৩০৫ সালে রাজা প্রথম অ্যাডওয়ার্ড জুতার মাপ সম্পর্কে ডিক্রি জারি করেন। এর ফলে ১ ইঞ্চি (২৫ সেমি) সমান তিনটি শুকনো যবের শীষ ধরা হয়। যতটি যবের শীষ পায়ের মাপের জন্য লাগত, সেটিই হতো জুতার মাপ বা নম্বর।
৮. ব্রিটেনে ১৪ ও ১৫ শতকে অসম্ভব চোখা ও লম্বা জুতার প্রচলন হয়। এতে হাঁটাহাঁটিতে ঝামেলা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড আইন জারি করেন- জুতার তীক্ষষ্টতা ২ ইঞ্চির বেশি হতে পারবে না।
৯. অদ্ভুত এক ধরনের জুতা পরতেন অস্ট্রিয়ান নারীরা। এটা ১৫৯২ সালের কথা। 'শ্যাপলিন' নামের সেই জুতার নিচে থাকত কাঠের একটা বার লাগানো, যা তাঁদের মাটি থেকে কমপক্ষে আধা ফুট তুলে রাখত।
১০. ফ্রান্সের রাজা ত্রয়োদশ লুই ১৭ শতকে জুতায় স্বর্ণের পাপড়ির গোলাপ লাগানোর ফ্যাশন চালু করেন এবং এই জুতার প্রবর্তন করেন। হাইহিল জুতা ছিল জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ।
১১. হাইহিল জুতা নিয়ে ফ্রান্সে ছোটখাটো কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধগুলোয় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়।
১২. এক ফরাসি ব্যক্তি ১৭৫০ সালে বকলস আবিস্কার করেন, যা জুতায় নতুন মাত্রা এনে দেয়। ইংল্যান্ডে বার্মিংহামে বিশাল কারখানা গড়ে ওঠে।
১৩. লন্ডনে ১৮ শতকের মধ্যভাগে হিল জুতা আবার ফিরে এসেছিল।
১৪. যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে ১৭৬০ সালে জুতা কারখানা স্থাপিত হয়।
১৫. চীনে ১০০ বছর আগেও মেয়েদের লোহার জুতা পরিয়ে রাখা হতো, তাদের জৈবিক আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত করার জন্য।
১৬. বিশ শতকের গোড়ার দিকে ডিজাইনার জুতার চল শুরু হয়। বাটা, নাইকি, অ্যাডিডাস, রিবকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিই তাদের ব্র্যান্ডের জুতা বাজারে ছাড়ে।
১৭. একসময় বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ খড়ম ব্যবহার করতেন।
১৮. অ্যাডলফ ডাসলার, ভার্জিনিয়া বোলতেনসহ অনেক মনীষীই জুতার কারখানায় কাজ করতেন।
১৯. পাদুকাসক্তি (ঝযড়ব ঋবঃরংযরংস) হলো এমন মানসিক অবস্থা, যেখানে নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গ বা সমলিঙ্গের জুতার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। া
তথ্যসূত্র : এনসাইক্লোপিডিয়া ও ইন্টারনেট

বিষয় : জুতা আবিস্কার

মন্তব্য করুন