[প্রয়াত অনুজ রতন গাউসুজ্জামানের স্মৃতির উদ্দেশে]

পথটা কাত হয়ে নেমে চলে গেছে দূরে। বহুদূরে
হয়তো আরও যেত নদীটা না আটকালে।
যেখানে শুরু সেখানেই শেষ যাত্রীবাহী গাড়ির
বাড়ির পথটা একটু গেলেই স্পষ্ট বাঁধের ঢালে।
এখানে বাস থামে; নামে মানুষ যাত্রা শেষের মোড়ে
গাড়িটা ঘোরে, ফিরে যেতে হবে যে আবার শহরে
আমি বহুদিন সামনের চা দোকানটায় বসে থেকেছি
খামাখাই। অপেক্ষায়। হাসতে হাসতেই উঠে পড়েছি আবার
আসেনি। আসবার কথা ছিল কি তার?
ছিল বোধহয়, ছিল হয়তো, ছিল ভাবনা আমার।
যাবার আগে যাবার সময় যাবার খানিক পরে
মনে হয়েছিল ফিরে আসবে আবার। সদর রাস্তা ধরে
আবার আসবে ফিরে। বিড়ি একটা ধরাবে। বড়াল বিড়ি।
ঠোঁটের ডগায় ঝিলিক দেয়া হাসি
বলল, আমার বাহন চলে যায়, আসি
গেল উল্টো পথে। আমি বসে আছি সদর রাস্তায়।
হায় ...
কী বিচ্ছিরি একটা হাসির ব্যাপার।
মাঝে মাঝে ঘটে কিন্তু। ঘটে এমন বছরে দুই-একবার।
বাস থামে যাত্রী নামে, বাসের দরজায় চোখ আটকায়
কই এলি ...?
সেই যে গেলি, ফিরতে হবে না ঘরে?
নাকি কথা ছিল না ফিরবার?
ফিরে আসবার আর একবার।
শুধু একবার চমকে দিয়ে আয়
ওই যে যায়। যায় শহরের গাড়ি
বাড়ি ফেরার তাড়া নেই আমার।
না। একদমই না।
আজ ভেবেছি যাবো
নিশ্চয়ই খুঁজে পাবো উল্টো পথের শেষ সীমাটা
রাস্তা কাটা, বলল রাস্তাটাই নাই।
কোনো নদী নাই রাস্তাটা আটকায়। যায় পথটা। শুধুই চলে যায়।
ইশারায় ছেনালী ডাকে
পথে আলপনা আঁকে
সেই পথে- যে পথে আসবি বলে গেলি।
আমি বহুদিন সামনের চা-দোকানটায় বসে থেকেছি
খামাখাই। অপেক্ষায়।
হাসতে হাসতেই উঠে পড়েছি আবার
আসেনি। আসবার কথা ছিল কি ...?

বিষয় : পদাবলি

মন্তব্য করুন