শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন। প্রস্তুত করতে পারেন নিজেকে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারের জন্য - তার কৌশল জানাচ্ছেন ডা. ইরফান হাফিজ

যে কেউ চাইলে শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন আগামী চাকরির বাজারের জন্য। চাকরি পাওয়ার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি সঠিক কৌশল অবলম্বন করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোনো সিলেবাস থাকে না, তবে এই টপিকগুলোই সাধারণত বেশি আসে। বাংলা (ব্যাকরণ ও সাহিত্য), ইরেজি (গ্রামার ও অন্যান্য ), গণিত (বীজগণিত, পাটিগণিত ও জ্যামিতি), সাধারণ জ্ঞান, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং খেলাধুলা। এগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করলেই আপনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে যাবে। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্যাকাল্টি বেজড প্রশ্নও পড়তে হবে। অনেকেই চাকরির জন্য শর্টকাট পড়তে গিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন না। প্রথমে সামর্থ্য অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী পড়া চালিয়ে যাওয়া উচিত।

যেমন- আইবিএ, বুয়েট, আর্টস ফ্যাকাল্টির বিগত সালের প্রশ্নগুলো ভালো করে আগে পড়ে নিতে হবে একটা ধারণার জন্য। এরপর গতানুগতিক ধারায় পড়া চালিয়ে যেতে হবে। শর্টকাট প্রস্তুতি বা দু-একটা ডাইজেস্ট পড়ে বেশিদূর যাওয়া যায় না। পড়তে হবে মূল বই। এর সঙ্গে বিষয় ও ধারণাগুলো পরিস্কার থাকাটাও জরুরি। শুধু পড়াশোনা করলেই সহজে ভালো চাকরি পাওয়া যায় না। যারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই সঠিক কৌশল অবলম্বন না করার কারণেই ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই সবার আগে আপনার সঠিক টেকনিক অবলম্বন করা উচিত। কৌশল জানা থাকলে আপনি কম পড়াশোনা করেও সহজেই ভালো চাকরি পেতে পারেন।

আর সে জন্য আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে রুটিন করে। মনে রাখতে হবে, পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই। লেখাপড়া বলতে যে লেখা এবং পড়া এই দুটি জিনিসের সমন্বয়, সেটি কিন্তু আমরা অনেকেই ভুলে যাই। যদিও চাকরির পরীক্ষার কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তবুও যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিচ্ছেন ওই প্রতিষ্ঠান এবং সমপর্যায়ের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অতীত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নাবলি দেখে একটি ধারণা নিন। কী ধরনের প্রশ্ন হয়, কোনো কোনো বিষয়ে পরীক্ষা হয়, প্রশ্নের মানবণ্টন, পরীক্ষার সময়, কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি করে নিন।

না বুঝে কোনো কিছু মুখস্থ করা উচিত নয়। পরীক্ষার আগে অনেকে সময়ের অভাবে না বুঝে অনেক পড়া মুখস্থ করে। সেটা চাকরির পরীক্ষা বা ক্লাসের যে পরীক্ষাই হোক না কেন, যা কখনোই করা উচিত নয়। সব সমস্যা খুঁজে বের করুন এবং সাহায্য নিন। প্রথমে আসি বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়ে।
ভালো প্রস্তুতির জন্য ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দ গঠন ও প্রকরণ, পুরুষ, অনুসর্গ, উপসর্গ, বাক্য প্রকরণ ও রূপান্তর, ক্রিয়ার কাল, পদ, ধাতু, বিরাম চিহ্ন, বাচ্য ও বচন, সাধারণত বানান, বাক্যের গঠন, লিঙ্গ, সন্ধি ও সমাসের যথাযথ প্রয়োগের ওপর প্রশ্ন করা হয়- এগুলো পড়তে হবে। এসবের বাইরে বাংলা ব্যাকরণ থেকে খুব একটা প্রশ্ন আসবে না। এই অংশ ভালোভাবে পড়লে বাংলা থেকে ভালো মার্ক পাওয়া যাবে। বাংলা সাহিত্যের জন্য ক্লাস ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা বোর্ডের বইয়ের সব কবি পরিচিতি আর গল্প/কবিতার উৎস, পটভূমি কোন কবিতা কোন ছন্দে রচিত এসব কয়েকবার করে রিভিশন করবেন।

তবে মূল গল্পটা মার্কিং করে পড়লে ভালো হয়। কবিতার ছন্দ থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। বইয়ে অনেক কবিতা আছে আর সবগুলো কবিতার ছন্দ মনেও রাখা যায় না- সেটি মাথায় রাখতে হবে।

ব্যাকরণ অংশে মার্কস ভালোই তোলা যায়। সাহিত্য অংশ পড়তে গিয়ে অনেক সময় মনে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে আপনি আপনার মতো করে ছন্দ তৈরি করে পড়তে পারেন। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে জেনে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজাতে হবে এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। যা পড়ছি, সেটি কোনো রকমে না পড়ে, গভীরে গিয়ে বুঝে বুঝে পড়তে হবে। প্রয়োজনে যা পড়লাম, তা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সিলেবাস ও আগের বছরের প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। সিলেবাসের কোন কোন টপিক থেকে এর আগে প্রশ্ন এসেছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

এতে সহজেই বুঝতে পারবেন, কোন কোন বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। খেয়াল করে দেখবেন, কিছু টপিক থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। আবার কিছু টপিক থেকে খুব বেশি প্রশ্ন আসে না।

যেসব বিষয় থেকে প্রশ্ন কম হয়, সেগুলোর পেছনে বেশি সময় নষ্ট করবেন না। দিনে কত ঘণ্টা পড়লেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কী পড়লেন, গুছিয়ে পড়লেন কিনা, যা পড়লেন সেটি আদৌ গুরুত্বপূর্ণ কিনা। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে আছে শুধু চর্যাপদ। এখান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। এ ছাড়া মধ্যযুগের টপিক সংখ্যা সীমিত। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।