শোকের মাসে কিশোরগঞ্জ সুহৃদ সমাবেশ 'আগস্ট ট্র্যাজেডি :বাঙালির সাময়িক পরাজয় ও প্রজন্মের বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা ও কবিতা পাঠের আয়োজন করে। সুহৃদ উপদেষ্টা বাদল রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্র ও পঁচাত্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন ফারুকী, ছড়াকার ও গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান, অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিক, জেলা উদীচীর সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দীন ভূঁইয়া, নারী নেত্রী ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট আবদুল জলিলের কন্যা ফৌজিয়া জলিল ন্যান্সি, প্রভাষক বদরুল হুদা সোহেল, মাহফুজা আরা পলক প্রমুখ।

জিল্লুর রহমান বলেন, খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রে কতিপয় বিপথগামী সেনা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একাত্তরের নির্লজ্জ পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়। তারা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। জাহাঙ্গীর আলম জাহান বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম বা ব্যক্তিবিশেষ নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান।

আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা ও ছড়া পাঠ করে শোনান মাহফুজা আরা পলক, জাহাঙ্গীর আলম জাহান, আসলামুল হক আসলাম প্রমুখ। আলোচনা ও কবিতা পাঠ চলাকালে আকস্মিক অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া কিশোরগঞ্জের সদ্যবিদায়ী পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম বার এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ। এ সময় অনুষ্ঠানটি বিদায়ী পুলিশ সুপারকে নিয়ে একটি অসাধারণ আড্ডায় পরিণত হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, আপনাদের কথা শুনতে এসেছি। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর এ জেলায় দায়িত্ব পালন করেছি। সুহৃদ সমাবেশের সব অনুষ্ঠানেই আমি উপস্থিত থাকতাম। আপনাদের সহযোগিতা এবং দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সুহৃদের গভীর মমত্ববোধ আমাকেও প্রাণিত করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একে অন্যের পরিপূরক।

এর আগে ১৫ আগস্ট সকালে সুহৃদ সদস্যরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণে উপস্থিত ছিলেন কোহিনূর আফজল, হারুন-আল রশীদ, ফৌজিয়া জলিল ন্যান্সি, আসলামুল হক আসলাম, ফারহানা আইরিন, শাহীন সুলতানা ইতি, নার্গিস আরা পপি, শেখ রিগ্যান, মুন্না প্রমুখ। 
নিজস্ব প্রতিবেদক কিশোরগঞ্জ

বিষয় : কবিতা পাঠ

মন্তব্য করুন