প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আর এই শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউনিসেফের উদ্যোগে শিশু সুরক্ষায় প্রথম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন পর্বে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারসহ উন্নয়ন সংস্থাগুলো শিশুদের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সংক্ষিপ্ত সময়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্য অন্যতম বাধা। সরকার সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য একটি জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল প্রণয়ন করেছে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় সরকার এক কোটিরও বেশি মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। শিশুরাও এসব কর্মসূচির উপকারভোগী।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুদের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়ে সায়েমা ওয়াজেদের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আমাদের সরকার ২০১৬ সালে শিশু হেল্প লাইন ১০৯৮ চালু করেছে। এটি ১০ লাখেরও বেশি শিশু ও তাদের পরিবারের কথা শুনেছে। থানাগুলো শিশুবান্ধব করার লক্ষ্যে চাইল্ড হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের শিশুদের মান উন্নয়নে সবকিছু করছি, যদিও আরও অনেক কিছু করতে হবে। শিশুদের অধিকতর উন্নয়নে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। একটি নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবে চালু করা যেতে পারে শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়. সরকার ৬ হাজার নতুন সমাজকর্মী নিয়োগ দেবে। এর ফলে সমাজকর্মীর সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ৯ হাজারে উন্নীত হবে। একটি বিস্তৃত জাতীয় গৃহস্থালি জরিপ প্রকাশের পর শিশুদের বিষয়ে যুগান্তকারী এই প্রতিশ্রুতি আসে। এই জরিপে দেখা যায়, ১৫ বছরের কম বয়সী বাংলাদেশি শিশুর প্রায় ৮৯ শতাংশ বা সাড়ে ৪ কোটি শিশু বাড়িতে নিয়মিত সহিংসতার শিকার হয়, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
উদ্বোধন পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজমবিষয়ক উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বলেন, শুধু সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে শিশুদের জন্য বিনিয়োগ করলে হবে না। আমাদের প্রত্যেককে এ নিয়ে কাজ করতে হবে।
আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি।
উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এবং বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।