পূজা এসেছে আর নতুন পোশাক কেনা হবে না তা কি হয় নাকি! আকাশে সাদা মেঘের ভেলা থাকুক আর না থাকুক, বিলে পদ্ম ফুটুক আর না ফুটুক, বনে বাদাড়ে-খোলা প্রান্তরে কাশফুল তার রূপের মাধুরী ছড়াক আর না ছড়াক, হৃদয়ে যে পূজার ঢাকঢোল বাজতে শুরু করেছে। মৃদুমন্দ বাতাস কানে কানে বলে যাচ্ছে মা দুর্গার আগমনী বার্তার কথা। কারণ আশ্বিন মাস শুরু হয়েছে। শরতের আকাশে তবুও যেন তুলোর মতো মেঘের ছড়াছড়ি নেই। আছে কালো মেঘের ঘনঘটা। বর্ষার আকাশের মতোই কোনো রকম পূর্বাভাস না জানিয়ে কেঁদে উঠছে শরতের আকাশ। ধীরে ধীরে কালো মেঘের ঘনঘটা নিশ্চয় কেটে যাবে। ঢাকের তালে তালে কোমর দুলিয়ে কিশোর-কিশোরীসহ সবাই পূজার আনন্দে মেতে উঠবে। তাই তো শুরু হয়ে গেছে পূজার প্রস্তুতি। ফ্যাশন হাউসগুলোতেও লেগে গেছে উৎসবের ধুম। বিভিন্ন উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল রঙের মিশেলে এবার সাজানো হয়েছে পূজার পোশাক। করোনার কারণে টানা দুই বছর বা তার বেশি সময় ব্যবসা করতে পারেননি ফ্যাশন হাউসের মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এবার পোশাক বিক্রির ব্যাপারে তাঁরা বেশ আশাবাদী।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি, পাঞ্জাবি, কুর্তি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, কাফতান, থ্রিপিস, এথনিক, লেডিস ক্যাজুয়াল শার্ট, লন থ্রিপিস, ধুতি, হারেম প্যান্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। শাড়িতে রয়েছে বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণ। লাল, হলুদ, সাদা, নীল- কী নেই! শাড়ির আঁচল যেন হয়ে উঠছে রঙিন ক্যানভাস। কোনো কোনো ব্র্যান্ড পুরুষ ও শিশুদের জন্য নিয়ে এসেছে ফতুয়া, কাতুয়া, টি-শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, শর্ট স্লিভ শার্ট, পলো শার্ট, চিনো প্যান্ট, ডেনিম প্যান্ট, পায়জামা ইত্যাদি।
রং ও নকশা :লাল, নীল, হলুদ, মেরুন, সাদা, ম্যাজেন্টা, গোলাপি, বেইজ, পিচ, গোল্ডেন, কালোসহ বিভিন্ন রঙের পোশাক নিয়ে এসেছে ব্র্যান্ডগুলো। কিছু কিছু পোশাকে রয়েছে কয়েকটি রঙের সংমিশ্রণ। আবার কিছু কিছু পোশাকে আছে প্যাচওয়ার্ক। কোনো কোনো ফ্যাশন হাউস আবার শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, ধুতিতে গান-কবিতা ইত্যাদির ছাপচিত্রের মাধ্যমে রেখেছে নিজস্ব স্বাক্ষর। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানান, এবারের পোশাকগুলোতে উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাকের সৌন্দর্য বাড়াতে ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। চুনরি, টাই-ডাই, ব্লক, কারচুপি, অ্যাপলিক, কাটওয়ার্ক, স্কিনপ্রিন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। পোশাকের ব্র্যান্ড সারা পূজার পোশাকে আলপনাকে মূল থিম হিসেবে ধরেছে। ডিজাইনে পোশাকের প্যাটার্ন, রং ও মোটিফের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবারের থিম। ডিজাইনের ক্ষেত্রে উৎসব, ঋতু, সময়, ক্রেতার বয়স ও ক্রয়ক্ষমতা প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানা গেছে সারার ডিজাইনার শামীম রহমানের সঙ্গে কথা বলে।
কাপড়ের ধরন :অঞ্জন'সের ডিজাইনার বকুল বেগম জানান, অঞ্জন'সের এবারের পোশাকের ক্ষেত্রে সুতি, লিনেন, জর্জেট, এন্ডি সিল্ক্ক, এন্ডি কটন, নতুন ধরনের উইভিং ডিজাইনের কাপড়কে বেছে নেওয়া হয়েছে। গরম ও বৃষ্টিতে পরার উপযোগী পোশাক নিয়ে এসেছে ব্র্যান্ডটি। গরমের কথা মাথায় রেখে বিশ্বরঙ, কে কদ্ধ্যাফট, সারা, লা রিভসহ অন্য পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে এসেছে আরামদায়ক সুতি, লিনেন, ভিসকস, ভয়েল ইত্যাদি কাপড়। আভিজাত্য তুলে ধরতে জয়সিল্ক্ক, ধুপিয়ান, হাফ সিল্ক্ক, জর্জেট, সিফনসহ ভিন্ন ভিন্ন বাহারি কাপড়ও ব্যবহার করা হয়েছে।
মোটিফ ও প্যাটার্ন :প্রতিবারের মতো এবারের পূজার পোশাকে বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। ব্র্যান্ডটিতে মা দুর্গার প্রতিকৃতি, প্রকৃতির নান্দনিক রূপের গ্রাফিক্যাল জ্যামিতিক ফর্মের সমন্বয়ে দুর্গা মোটিফ, মন্ত্র, ড্রইং ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ধুতি, থ্রিপিস, ফতুয়া, শার্ট ইত্যাদির মলিন সার্ফেসে। পোশাকের প্যাটার্নেও আছে ভিন্নতা। পূজা উৎসবকে আরও ভালো করার প্রয়াসে কে কদ্ধ্যাফট নিয়ে এসেছে বর্ণিল পোশাক। মূলত মানডালা, ট্রাইবাল ও ফ্লোরাল মোটিফের অনুপ্রেরণায় এবং বিচিত্র রঙের বিন্যাসে চলমান ট্রেন্ড অনুযায়ী পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে। কে কদ্ধ্যাফটের পোশাকের প্যাটার্নে ভিন্নতা আনা হয়েছে। ক্ল্যাসিক লুকের সঙ্গে রেট্রো লুকের সংমিশ্রণে নতুন মাত্রা এনেছে ব্র্যান্ডটি। এ ছাড়াও রাখা হয়েছে কিছু ট্র্যাডিশনাল প্যাটার্ন।
বয়স্করাও বাদ নয় :তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি বয়স্কদের জন্যও পোশাক নিয়ে এসেছে ব্র্যান্ডগুলো। আরামদায়ক কাপড় ও হালকা রংকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকন ও চওড়া পাড়ের সুতি শাড়ি, তাঁতের শাড়ি, সিল্ক্ক শাড়ি কেনা যাবে। পূজার পটভূমিতে তৈরি বিভিন্ন মোটিভ রাখা হয়েছে শাড়িতে। পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে আরামদায়ক ফেব্রিক এবং লুজ ফিটিংয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শার্ট ও পাঞ্জাবিতে পূজার বিভিন্ন মোটিভ ও হালকা কাজ রাখা হয়েছে।
কেনাকাটা :জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড যেমন বিশ্বরঙ, কে কদ্ধ্যাফট, অঞ্জন'স, রঙ বাংলাদেশ, সেইলর, সারা, ব্লুচিজ, লা রিভ, ইয়েলোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে পূজার পোশাক কেনা যাবে। এ ছাড়া ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ফরচুন শপিং মল, সুবাস্তু, মৌচাক মার্কেট, টোকিও স্কয়ার, শ্যামলী স্কয়ার, কৃষি মার্কেট, সীমান্ত স্কয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেট থেকে পূজার পোশাক কেনা যাবে।
দরদাম :পোশাকের ফেব্রিক, ডিজাইন, মোটিফ, প্যাটার্ন ইত্যাদির ওপর দামের হেরফের হয়। যেকোনো ব্র্যান্ড থেকে পোশাক কেনা যাবে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫-৭ হাজার টাকার মধ্যে। মার্কেট থেকে আরও কম দামে পছন্দের পোশাক কেনা যাবে। া