সম্প্রতি ইরানের নীতি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বছরের ইরানি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু হয়। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিবাদে ফুঁসছে গোটা ইরান। ইরানি নারীরা প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের চুল কেটে ফেলছেন, হিজাব পুড়িয়েছেন। এ প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাহিত্যিক জে কে রাউলিং। পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় ২২ বছরের তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বললেন তেহরান পুলিশের প্রধান। এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহে হিজাব আইন না মানার অপরাধে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দেশটির 'নীতি পুলিশ', যা হিজাব পুলিশ নামেই বেশি পরিচিত। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোমায় চলে যান মাহসা আমিনি। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মৃত্যু হয় তাঁর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাঁকে গাড়িতে তুলেই প্রচণ্ড নির্যাতন করেছে পুলিশ। মাহসার বাবা আমজাদ আমিনির দাবি, তাঁর মেয়ের কোনো রোগ ছিল না। তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মাহসার সঙ্গে আরও যাঁদের হিজাব আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাঁরা আমজাদকে ফোন করে এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন।
মাহসার মৃত্যুর পর প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইরানে। নারীরা নিজের চুল কেটে, হিজাব পুড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। টুইটারে পোস্ট করা ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদের একটি ভিডিও, যেখানে তিনি নিজের চুল কেটে মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, সেটি শেয়ার করেছেন সাহিত্যিক জে কে রাউলিং। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'প্রকৃত সাহস একেই বলে।' ইরানে নারীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। নীতি পুলিশের অন্যতম কাজ হিজাব ঠিকমতো পরা হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করা। কট্টরপন্থি বিচারক ইব্রাহিম রাইসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর এ তৎপরতা আরও বেড়েছে। নীতি পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের প্রগতিমনা জনগণ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।