সেতুদের বিশাল ফল বাগান। তাতে বরই, আম ও লিচুর চাষ হয়। তবে সেতুর ভালো লাগে আপেল, কমলা আর আঙুরের বাগান। একবার সেতু বাবার সঙ্গে দেশের বাইরে ঘুরতে গিয়ে দেখেছে আঙুর, আপেল আর কমলার বাগান। বাগানে থোকা থোকা ঝুলছে আঙুর। হলুদ আর সবুজ কমলায় একাকার বাগান। তাই সেতুরও ইচ্ছে আঙুর, আপেল আর কমলার বাগান করার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। ফলের মতো সেতুর ফুল বাগান করারও ইচ্ছে। দেশি ফুলের বাগান। আস্তে আস্তে সে ফুল বাগান করতে থাকে। সেই বাগানে কতো কতো ফুল। তার বাগানে গাঁদা, গন্ধরাজ আর শিউলির মতো কতো ফুল ফোটে!
প্রতিদিনের মতো সেতু ফুল গাছে পানি দিতে গিয়ে দেখে বাগানে অদ্ভুত সুন্দর এক ফুল ফুটে আছে। কী ফুল সে চিনতে পারছে না। ভাবলো, ফুলটা তুলে ঘরে নিয়ে যাবে। যেই হাত বাড়ালো অমনি আজব ফুল বললো, আমাকে তুলো না, আমাকে না তুললে আমি তোমার একটা মনের ইচ্ছা পূরণ করবো।
সেতু বললো, কে তুমি?
ফুল বললো, আমি ফুলপরী। এবার বলো তোমার মনের ইচ্ছে?
সেতু বললো, আমার আপেল, আঙুর আর কমলার বাগান চাই।
ফুলপরী বললো, ওহ এই ব্যাপার? ঠিক আছে। হয়ে যাবে।
সেতু মহাখুশি। আনন্দে দিন কাটলো। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এলো। আর অমনি ফুলপরী হাজির। সঙ্গে আছে ফলপরী। ফলপরী সেতুকে বললো,
বলে যাও হেসে হেসে
চলো যাই ফলের দেশে।
চোখ বন্ধ করে কথাটি বলতে থাকলো সেতু। তারপর চোখ খুলেই দেখে দিগন্তজোড়া আঙুরের বাগান। গাছে গাছে থোকা থোকা ঝুলছে আঙুর। সেতুর আনন্দ দেখে কে? ও এই খাচ্ছে এই পকেটে নিচ্ছে। এই করতে করতে একটু এগিয়ে যেতেই দেখে একই গাছে ধরে আছে কমলা আর আপেল। কোনটা আগে খাবে সেতু! একসঙ্গেই খাওয়া শুরু করলো সে। এমন সুস্বাদু ফল আগে কখনও খায়নি সে। খেতে খেতে কখন যে সকাল হয়ে গেলো বুঝতেই পারেনি সে! মা এসে ডাকতেই সে হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বাগানের দিকে গেলো। একি- কই গেলো সেই আজব গাছ; কোথায় তার ফল বাগান!

বিষয় : গপ্পো

মন্তব্য করুন