আমাদের সামষ্টিক জীবনে নদীর অবদান অপরিসীম। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী আমাদের প্রকৃতির রাজপথ। অথচ এ বছর বিশ্ব নদী দিবস পালিত হচ্ছে এমন সময়, যখন বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নাম। অযত্নে-অবহেলায় ১৯৬৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৩৭ বছরে দেশের ১১৫টি নদ-নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায় এবং গত ২০০০ থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৪৩টি নদী মরে গেছে। আদি বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কুড়ারঘাট, বুলুর ঘাটের ওপাড়ে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকারি হাসপাতাল। তার পাশেই পশ্চিম রসুলপুরে নদীর বুকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সরকারি বিদ্যুৎ স্টেশন। তার পাশেই মেটাডোর কোম্পানি, পান্না ব্যাটারি, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকার চারপাশের নদনদী দখল করে। এসব প্রতিষ্ঠানের দখলের কারণে আদি বুড়িগঙ্গাসহ বিভিন্ন নদী দখলে মেতে উঠেছে নদীখেকো ভূমিদস্যুরা। অথচ নব্বই দশকের পরও আদি বুড়িগঙ্গায় জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ছিল। দুই যুগ ধরে চলতে থাকা দখলের কবলে পড়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাজধানীর পশ্চিমের বুড়িগঙ্গার এই আদি চ্যানেলের প্রায় ৩৫০ একর জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন চলছে নদী দখল। আমাদের নদীর পানি হচ্ছে আরও দূষিত।
২০১৯ সালের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৪৯ জন। এর আগের বছর দখলদারের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০। উচ্ছেদও করা হয় ১৮ হাজার ৫৭৯টি অবৈধ দখল। পরের বছর ২০১৯ সালে সারাদেশে দখলদারের সংখ্যা পাঁচ হাজার বেড়ে গেছে।
নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত তুরাগসহ দেশের সব নদীকে 'জীবন্ত সত্তা' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন; কিন্তু প্রাণ ফিরে পাচ্ছে না আমাদের নদীগুলো। তাই সামাজিক সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশের সব নদী দখলমুক্ত করে নদীর সঙ্গে শাখা নদী ও খালের সীমানা পিলার স্থান করে নৌপথে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হোক। া
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নোঙর বাংলাদেশ

বিষয় : নদী প্রকৃতি

মন্তব্য করুন