যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখনই একাডেমিকের পাশাপাশি বিসিএসের জন্য টুকটাক পড়াশোনা শুরু করি। এ ক্ষেত্রে উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছিল, যেদিন দেখেছি নিজ বিভাগের এক বড় ভাই পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে বিভাগে এলেন এবং ভাইয়ের প্রতি সবার আগ্রহ দেখে। সেদিনই মনের মধ্যে একটা সুপ্ত ইচ্ছা জেগেছিল। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় পরবর্তীতে পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে আমি বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। এভাবে নিজের শুরু আর সফলতার কথা বলছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) গণিত বিভাগের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আশরাফউজ্জামান।

আশরাফউজ্জামানের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা গ্রামে। চুনারুঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। এরপরে দক্ষিণাচরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন শাবির গণিত বিভাগে। এখান থেকেই নতুনকে জানার আগ্রহে অদম্য পথচলা শুরু- এমন জানিয়ে তিনি বলেন, সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। স্বপ্টম্ন দেখতে শিখিয়েছে, পথ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, তবে বিসিএসের প্রস্তুতির পথটা কখনোই মধুর কিংবা আরামদায়ক ছিল না। দীর্ঘ ক্লান্তিকর এবং একটা নিঃসঙ্গ পথ বেয়ে ওপরে উঠতে হয়, যেন আঁকাবাঁকা পথে পাহাড়ে ওঠার মতো। এ পথে চলতে বারবার হতাশ হয়েছি, অনেক সময় এমন মনে হয়েছে যে ছেড়ে দেই। এই ক্লান্তিকর পথে আর না যাই, এতটা চাপ না নিলে জীবনে কী ক্ষতি হবে। ঠিক পরের মুহূর্তেই পরিবারের কথা মনে হতো, নিজের স্বপ্টম্নগুলোর কথা চোখের সামনে ভেসে উঠত। আলহামদুলিল্লাহ, সফল হয়েছি, এখন দেশের মানুষের প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। নতুন যারা বিসিএস বা অন্যান্য চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার চিন্তা করছেন তাদের উদ্দেশে বলেন, আজকে থেকেই শুরু করে দেন। নিজেকে অজুহাত কখনোই দেখাবেন না। বিসিএসের পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা পড়ার চেষ্টা করতে হবে। গণিত, বিজ্ঞান আর ইংরেজি বিষয়ে অত্যধিক গুরুত্ব দিন। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির নোট খাতা তৈরি করুন, পরীক্ষার আগের রাতে দেখলে বেশি কাজে লাগবে। প্রতিদিন নিয়ম করে একটি বাংলা ও ইংরেজি দৈনিক পড়ূন। এতে আপনার তথ্যের ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে।।