বর্ণহীন, উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বক কে না চায়! খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ছেলেমেয়েদের ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের বিভিন্ন জায়গায় ছোপ ছোপ কালো দাগ, মেছতা পড়ে। অল্প বয়সে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ত্বক বুড়িয়ে যায়। বিভিন্ন কারণে ত্বকে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় হচ্ছে- অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পুষ্টিকর খাবার থেকে বিরত থাকা, ত্বকে বেশি বেশি মেলানিন তৈরি হওয়া ইত্যাদি। ত্বকে যখন সঠিকভাবে আর্দ্রতা বজায় থাকে না, ত্বকের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ত্বক হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে বেশি বেশি মেলানিন তৈরি করে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতার পাশাপাশি সুস্থতা বজায় রাখতে বাধা দেয়। এ ছাড়া অনিদ্রা, অপরিচ্ছন্নতা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি কারণেও ত্বক অনুজ্জ্বল হয়ে যায়।
ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে হলে ত্বকের যত্ন নিতে হবে ভেতর থেকে, অর্থাৎ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব।
যে খাবারগুলো ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে
তরল খাবার :ত্বক ভালো রাখতে দৈনিক কমপক্ষে ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস (সাদা চিনি ছাড়া), টক দই, পুদিনা পাতা, চিয়াসিডস এবং খোসাসহ কচি শসা একসঙ্গে মিশিয়ে একটি স্মুদি বানানো যেতে পারে। বাদাম মিল্ক্কশেক, নারকেলের দুধ কিংবা গরুর দুধের সঙ্গে সামান্য গুঁড়া হলুদ মিশিয়েও উপকারী পানীয় তৈরি করে পান করা যেতে পারে। এগুলো ত্বকের জন্য খুবই উপকারী এবং এই তরল জাতীয় খাবারগুলো আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট রাখে, যা ত্বকের সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে; সঙ্গে ত্বকের কোষগুলোকে সুস্থ রাখে।
রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল :দৈনিক খাবারের মেন্যুতে কমপক্ষে হলেও চার থেকে পাঁচ রঙের সবজি রাখতে হবে। রঙিন শাকসবজি ও ফলে প্রচুর পরিমাণে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যেমন- বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন, আলফা লিপোইক অ্যাসিড, গল্গুটাথিওন ইত্যাদি থাকে। সবজির ক্ষেত্রে পালং শাক, হেলেঞ্চা শাক, থানকুনি শাক, কলমি শাক, শসা, টমেটো, গাজর, ক্যাপসিকাম, পেঁপে, ব্রকলি, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টিআলু এবং ফলের ক্ষেত্রে কমলা, মাল্টা, আঙুর, ব্লুবেরি, আপেল, চেরিফল, লেবু ইত্যাদি। এই ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো খাবার ত্বকের রোদে পোড়া ভাব কমায়, অকাল বলিরেখা ও মৃত কোষের সমস্যা সমাধান করে থাকে।
ভিটামিন-ই যুক্ত খাবার :বিভিন্ন ধরনের বীজ, যেমন- সূর্যমুখীর বীজ, তিসির বীজ, কুমড়োর বীজ, এবং কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, আখরোট, ব্রকলি, অ্যাভোকাডো, কিউই ফল ইত্যাদি। ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো ত্বকের কোলাজেনের ভাঙন রোধের পাশাপাশি ত্বককে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার :লাল মাংস, মুরগির মাংস, কলিজা, কুমড়োর বীজ, কাজুবাদাম, মাশরুম, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার এবং ডার্ক চকলেট। জিঙ্ক ত্বকের ক্ষত দূর করে ও নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের ব্রণ ও দাগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড :আখরোট ও বাদাম থেকে তৈরি হওয়া তেল, সামুদ্রিক মাছ, যেমন- স্যামন, টুনা, সার্ডিন মাছ এবং সামুদ্রিক ঝিনুকের মাংস থেকেও ওমেগা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাঙালিদের অতি পরিচিত চেনা রুই মাছ, রূপচাঁদা, পাঙাশ, ইলিশ মাছেও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এটি ত্বক ভালো রাখে, পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের আর্দ্রতাকে ধরে রাখে। এর প্রদাহনাশক উপাদান ব্রণ, ত্বকের লালচে ভাব ও এরিথিমা কমাতে সাহায্য করে।
দৈনিক খাদ্য তালিকায় ছয়টি উপাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপরিউক্ত খাদ্যগুলো যুক্ত করতে হবে এবং সময়মতো ঘুম, কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। তার সঙ্গে কোনো ত্বকের সমস্যা যখন জটিলতর হবে, তখন অবশ্যই একজন ভালো ডার্মাটোলজিস্ট তথা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিয়ে ত্বকের চিকিৎসা করতে হবে। নাম না জানা ও আজেবাজে প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের ক্ষতি করবেন না। া
লেখক :পুষ্টিবিদ

বিষয় : লাবণ্যময় ত্বক উজ্জ্বল ত্বক

মন্তব্য করুন