বন্ধুর বিড়াল দেখে আনিকার বিড়াল পালনের খুব শখ হয়। ছোট ফ্ল্যাটে কীভাবে পুষবে, তা নিয়ে ভাবনায় পড়েছে। বিড়াল ও অন্যান্য পোষা প্রাণীকে খাবার খাওয়ানো, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও বেশ কষ্টকর। আনিকার মতো যাঁরা নতুন বিড়াল, কুকুর পোষার কথা ভাবছেন- তাঁরা কিছু বিষয় জেনে নিন। এতে পোষা প্রাণী পালতে সহজ হবে।

খাবার :ছোট বিড়াল ও বড় বিড়ালের খাবারের ধরন ও পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনতে পাওয়া যায়। ইদানীং রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অনেক এলাকায় পেট শপ গড়ে উঠেছে। সেখান থেকেও ডগ ফুড, ক্যাট ফুডসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনতে পাবেন। বিড়াল ও কুকুর সাধারণ আমিষ জাতীয় খাবার খায়। এর বাইরে বিশেষ কিছু না দিলেও সমস্যা হয় না। ওদের ভাত, মাছ, মাংস এবং খানিকটা ডিম দেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে মিষ্টিকুমড়া, গাজর, পেঁপে, আলুর মতো কিছু সবজি সিদ্ধ করে দিতে পারেন। তবে কিছু বিদেশি জাতের কুকুরকে বাড়তি ক্যালসিয়াম দিতে হয়। পশু ডাক্তারের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেবেন।

চা-কফি, চকলেট, পেঁয়াজ ইত্যাদি বিড়াল-কুকুরের জন্য ক্ষতিকর। ওদের খাবারে খুব সামান্য পরিমাণ লবণ দিতে হয়। খাবারে মসলা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি খরগোশ পুষতে চাইলে মনে রাখবেন, খরগোশকে কলমি শাক ও ভাত দেবেন না। তবে ধনেপাতা, পালংশাক, টমেটো, লেটুসপাতা, গাজর, শসা, কাঁচা ঘাস, শুকনো খড় দিতে পারেন।

আপনার পোষা প্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখুন। পাত্রে রেখে পানি নিয়মিত বদলে দিন, বিশেষ করে শীতকালে পানি দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। এ ছাড়া খোলা পাত্রে রাখা পানিতে ধুলো-ময়লা পড়ার আশঙ্কা থাকে। পানিতে ময়লা দেখলে দ্রুত তা ফেলে দিয়ে পরিস্কার পানির ব্যবস্থা করে দিন; কারণ অপরিচ্ছন্ন পানি পান করলে আপনার পোষা প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা :বিড়াল-কুকুরকে সপ্তাহে একবার করে গোসল করান। ওদের জন্য বিশেষ শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করুন। গরমকালে নিয়ম করে গোসল করাতে হবে। তবে শীতের সময় এক মাস বিরতি দিয়ে গোসল করালেও ক্ষতি নেই। অনেকে বাসায় থাকা অন্য সদস্যদের কথা ভেবে বিড়ালের নখ কেটে দিন; কিন্তু বিড়ালের নিজের জন্য নখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিড়ালের নখ কাটতে হলে নখের সামনের সামান্য অংশ কাটতে পারেন। প্রয়োজনে পেশাদার ব্যক্তির সহায়তা নিন।

যদি আপনি রাস্তা থেকে কোনো কুকুর বা বিড়াল তুলে এনে পোষার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে আসা কুকুর কিংবা বিড়ালের শরীরে ছোট পোকা হয়ে থাকে। এতে করে আপনি এবং আপনার বাসায় থাকা অন্য সদস্য-প্রাণীরাও রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই প্রাণীটিকে নিয়ে পশু চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করিয়ে আসুন।

বিভিন্ন জাতের দেশি কুকুর বা বিড়ালের গায়ে লম্বা লোম থাকে। সেগুলো ছাঁটার ক্ষেত্রে অবশ্যই পেশাদার ব্যক্তির সহায়তা নেবেন। এ ছাড়া পশু চিকিৎসকের সহকারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজগুলো করে থাকেন। রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকায় পেট পার্লার আছে। সেখান থেকে আপনার পোষা প্রাণীর জন্য নানা ধরনের সেবা নিতে পারবেন।

ভ্যাকসিন :পোষা কুকুর-বিড়াল নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। তাই বয়স অনুযায়ী ভ্যাকসিনেশন করিয়ে নিন। জন্মের পর দুই মাস বয়স হলেই বিড়াল ও কুকুরকে জীবাণুর সংক্রমণরোধী টিকা দিন। এক মাস পর বুস্টার ডোজ দিয়ে নেওয়া ভালো। এরপর তিন মাস পূর্ণ হলে জলাতঙ্কের টিকা দিন। এ ছাড়া পশু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিবছর নিয়ম করে পোষা প্রাণীকে প্রয়োজনীয় টিকা দিন। খরগোশকে ছয় মাস পরপর এবং কুকুর-বিড়ালকে তিন মাস পরপর কৃমির ওষুধ খাওয়ান।

কোনো প্রাণীকে বাসায় পুষতে চাইলে নিকটস্থ প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে কথা বলে প্রাণী চিকিৎসকের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া ভালো। অ্যাকুরিয়ামের মাছ, পাখি, কচ্ছপ, কুকুর, বিড়াল প্রতিটি প্রাণীর যত্ন করার ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। যাবতীয় তথ্যের জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে অবস্থিত টমজ পেট কেয়ারে যেতে পারেন। এ ছাড়া লাইফ কেয়ারে (লালমাটিয়া ও মিরপুর শাখা) গেলেও পোষা প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও চিকিৎসাসেবা পাবেন। া