তানজিনা তাবাচ্ছুম- এক পা-দু'পা করে চলতে চলতে আজ তাঁর পাঁচ লাখের ওপরে কবিতা আবৃত্তির শ্রোতা ফেসবুকে। কিন্তু এ পথ চলাটা এত সহজ ছিল না।
ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত তানজিনা। পড়াশোনা করছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগে তৃতীয় বর্ষে। স্কুল ও কলেজজীবনে কবিতা আবৃত্তি এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতার জন্য বহু পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ২০১৭ সালে চাঁদপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকের পুরস্কার জেতেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছিল তাঁর মূল নেশা। তানজিনা বলেন, '২০২০ সালে করোনা মহামারিতে যখন ক্যাম্পাস বন্ধ হয় তখন নোয়াখালী থেকে চাঁদপুর গ্রামের বাড়িতে চলে আসি। লকডাউনে গ্রামের বাড়িতে যখন অলস সময় কাটছিল, তখন আমি সময়টিকে এমন কাজে ব্যয় করতে চাইলাম যেন একটি সুন্দর স্মৃতি তৈরি হয় এবং সময়টা কোনো একটি গঠনমূলক কাজে ব্যয় করা যায়। করোনা মহামারি শেষে যেন বলতে পারি- সময় নষ্ট না করে কিছু একটা করেছি। এই ভাবনা থেকেই যাত্রা শুরু।' সেই থেকেই কবিতা আবৃত্তির চর্চা শুরু করেন তানজিনা এবং শখের বসেই শুরু করেন 'শব্দশিল্প' নামে ফেসবুক ও ইউটিউব পেজ।

তানজিনা জানান, ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ২০২০ সালে প্রথম তিন মাস কবিতা আপলোড দিলাম। সেটা শুনে ফেসবুকে বন্ধুরাও পছন্দ করেন এবং আমাকে অনুপ্রেরণা দেন। এরপর সেই বছরের ৩১ মে আমি পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল চালু করি এবং পুরোনো ভিডিওগুলো আপলোড করি। তানজিনা বলেন, 'আমার মা আমার প্রতিটা পাঠ খুব আগ্রহ-সহকারে শোনেন, যা আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়।' তবে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তানজিনা। তিনি বলেন, 'আমি যখন শুরু করি তখন আমার স্কুলের এক সহপাঠী বলেছিল- এসব কবিতা কেউ শোনে না। বেশ ছোট করে দেখেছিল কবিতাকে। অপমান করেই বলেছিল- এসব জিনিস পাবলিক পছন্দ করে না। এভাবে বলায় সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু কবিতা ভালোবেসেই পথ চলেছি। সেই কবিতাই আমাকে এনে দিয়েছে অনেক অনেক ভালোবাসা, সম্মান।'

কবিতা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তানজিনা বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশে আবৃত্তি শিল্প নিয়ে চর্চা থাকলেও বাচিক শিল্প নিয়ে চর্চা নেই বললেই চলে। যদিও এখন ধীরে ধীরে এ নিয়ে অনেকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ভারতে বাচিক শিল্পের খুব ভালো চর্চা হয় এবং সেখানে খুব ভালো শিল্পী আছেন। এই যে আমাদের দেশে ভাষা নিয়ে কাজ হচ্ছে না, ফলে সেই জায়গা থেকে অনেকেই দেখা যায়, বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলতে অনেক লজ্জা পান; যদিও অনেকে প্রকাশ করেন না। আবার অনেকে বাংলায় কথা বলার সময় এমনভাবে কথা বলেন যেন ইংরেজি বাচনভঙ্গিতে বাংলা কথা বলছেন। কিন্তু আমরা যখন বাচিক শিল্প নিয়ে কাজ করি তখন কিন্তু বিষয়টা মাথায় থাকে। যদিও আমাদের দেশে এর স্বীকৃতি নেই। আমি চাই আমার কণ্ঠে আরও অনেক মানুষের কাছে শিল্পটা পৌঁছে যাক। বিশেষ করে বাংলা চর্চাকারীদের কাছে।'