ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ চলাকালে ১৩ মিলিয়ন দর্শক কাতারে যাবেন; যা দেশটির বর্তমান সামগ্রিক জনসংখ্যার অর্ধেকের সমান। বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়াদের জন্য খারাপ খবর হলো, তাঁদের সবার কাতারে ভালোভাবে থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। দোহার বেশিরভাগ আবাসিক হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছে আয়োজক কমিটি। তবে মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আরও ২০ হাজার রুমের ব্যবস্থা করবে স্বাগতিক দেশ। তা চাহিদার কাছে কিছুই নয়।
থাকার জন্য দর্শকরা ব্যানানা (কলা) দ্বীপ বেছে নিতে পারেন। দোহা থেকে নৌকায় করে ২০ মিনিট দূরত্বে ব্যানানা আইল্যান্ডের স্লিপিং পডে থাকতে প্রতি রাতে ৮০ ডলার খরচ হবে। যদিও এই স্লিপিং পডগুলো বেশিরভাগই বুকিং হয়ে গেছে। এ ছাড়া পানির ওপর তৈরি করা হয়েছে ভিলা, যার জন্য প্রতি রাতে চড়া দাম দিতে হবে। ব্যানানা দ্বীপের সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পরিবারের কাছ থেকে ইতোমধ্যে বুকিং নেওয়া হয়েছে ওই বিলাসবহুল ভিলাগুলো।
এ ছাড়া আল খোরে প্রতি রাতে ৩৮০ ডলারে ডিলাক্স তাঁবুতে থাকা যাবে। আল ওয়াকরাহ ক্যাম্পে কয়েক হাজার কেবিন দেওয়া হবে। সেখানে প্রতি রাতে দিতে হবে ১৯০ ডলার।
বিশ্বকাপের দেশে যাওয়ার আগে সবার মাথাতেই থাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা। অন্যান্য স্বাগতিক দেশের মতো কাতারেও বিশ্বকাপকে ঘিরে শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোরও সাহায্য নিয়েছে কাতার। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স বিশ্বকাপ চলাকালে আকাশে টহল দেবে। এ ছাড়া মার্কিন বিমান ঘাঁটিও নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করবে।
বিশ্বকাপ চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার জন্য প্রতিটি স্টেডিয়ামে প্রায় ২ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে ঢোকার সময় দর্শকদের ভালো করে চেক করা থেকে শুরু করে সিটে বসা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবেন আয়োজকরা। তাই আক্ষরিক অর্থে বলা চলে, নিরাপত্তার দিক দিয়েও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কাতার।