সহিংসতা ও সভ্য সমাজ- এই দুটি সহাবস্থান করে না। সহিংসতা সমাজে নারী-পুরুষ, নৃজাতি এমনকি প্রাণিকুলের কারও প্রতি কখনোই হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। দুঃখের বিষয়, আমরা প্রতিনিয়ত সমাজের সব পর্যায়ে সহিংসতার প্রমাণ পেয়ে যাচ্ছি। আজকের এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশের গৌরবের পথচলায় নারীরা বেশি না হোক, অন্তত সমান পরিশ্রম দিয়েছেন এবং সমান দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের সমাজে আজ পর্যন্ত নারীকে সব ক্ষেত্রেই একটু বেশি সহিংসতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংগঠন ও প্রচারমাধ্যমগুলো একযোগে কাজ করেছে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় যুগান্তকারী আইন ও নীতিমালা তৈরি করতে পেরেছে। একুশ শতকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের দিকে আমরা জোর দিচ্ছি অনেক বেশি। কারণ আমরা জানি, ৫০ শতাংশ নারীর সরাসরি ও সক্রিয় অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করতে পারলে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কখনোই সম্ভব নয়।

আজও নারী ঘরে-বাইরে পুরুষের তুলনায় বেশি সহিংসতার শিকার হন। যারা এ কাজগুলো করে আসছে, তাদের বেশিরভাগই বিচার ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়। আজ কর্মক্ষেত্রে নারী সমানভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন। এই পথচলাকে সুন্দর ও সুস্থ করার জন্য আমাদের সবাইকে আবারও সহিংসতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ জোরালো করতে হবে। এখনও আমরা নারীকে দোষারোপ করি। কোনো সহিংসতার ঘটনায় তাঁর পাশে দাঁড়াতে কুণ্ঠাবোধ করি। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কখনোই বিকশিত হতে পারবে না। 

লেখক: পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড

বিষয় : নারীর পথচলা শামীমা আখতার

মন্তব্য করুন