সকাল থেকেই একের পর এক বিতার্কিক উপস্থিত হতে থাকে। সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবক। লক্ষ্য নগরীর জিন্দাবাজার সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উৎসবে অংশগ্রহণ। সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে রিপোর্টিং। সাড়ে ৯টায় শুরু হয় যুক্তি-পাল্টা যুক্তির যুদ্ধ। সিলেট অঞ্চল পর্বের জমকালো এ আয়োজনে অংশ নেয়- সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের বিতার্কিকরা। বিতর্কে সিলেট অঞ্চল পর্বের চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা জিলা স্কুল। বিতর্কে পাঁচ জেলাকে পেছনে ফেলে কুমিল্লার বিতার্কিকরা চ্য্যম্পিয়ন হয়। রানার্সআপ হয় সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় কুমিল্লা জিলা স্কুলের সৌম্য প্রসাদ ভৌমিক।

বিতর্কে অংশগ্রহণকারী অন্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- মৌলভীবাজারের দি ফ্লাওয়ার কেজি অ্যান্ড হাই স্কুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জের সরকারি সতীশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জের প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুল। দিনব্যাপী বিতর্কে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাদ্দেস বাবুল, শাবির ডিবেটিং সোসাইটির প্রকাশনা ও প্রযুক্তি সম্পাদক সায়মা মেহজাবিন চৌধুরী ও আইডিয়াল ডিবেটিং ক্লাবের মুহতাসিম পারভীন।

সমকাল সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ মুকিত রহমানীর সভাপতিত্বে ও স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল আহমদ বাবলুর পরিচালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহম্মদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির খান, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন সুহৃদ মাসুদুর রহমান মাসুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কুমিল্লা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। বক্তব্য শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবীর আহম্মদ বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলাম। আমাদের সময় এমন বিতর্ক ছিল শুধু কল্পনা। দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহসও ছিল না। কিন্তু আজ বিজ্ঞানের বদৌলতে অনেক কিছু বদলে গেছে। এখন আমাদের সবকিছুই বিজ্ঞাননির্ভর। আমরা উপলব্ধি করতে পারছি বিজ্ঞানের বিকল্প নেই। তাই বিজ্ঞান শিক্ষায় মনোযোগী করার একটি প্রয়াস চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমও এসব কাজে ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, সমকালের মাধ্যমে বিজ্ঞান নিয়ে বিতর্কের যে জয়যাত্রা চলছে তা দেখে বোঝাই যাচ্ছে একদিন এই দেশ এবং দেশের মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক হবেই।

উৎসবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সমকাল সিলেট ব্যুরোর স্টাফ ফটো সাংবাদিক ইউসুফ আলী, সুহৃদ তৌহিদুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, শাদমান সাকিব, শহিদ আহমদ সাকিব, মুনিরা রহমানী মাহা, আহমদ আব্দুল্লাহ সিনদীদ, আহমদ আদিলাহ তোবা।
সদস্য সুহৃদ সমাবেশ, সিলেট