দেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার হিসেবে জহির রায়হান, খান আতাউর রহমানের পরেই আমজাদ ভাইয়ের [আমজাদ হোসেন] নামটি বলা যায়। চার বছর হলো তিনি আমাদের মাঝে নেই। গুণী মানুষটি ছিলেন আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। আমার বড় দুই বোনের সঙ্গে যখন তিনি কাজ করতেন, তখন আমি অনেক ছোট। আমাকে বলতেন, বড় হলে তোমাকে আমার সিনেমায় অভিনয় করতে হবে। তাঁর পরিচালনায় 'গোলাপী এখন ঢাকায়' অভিনয় করেছি। বরেণ্য এই নির্মাতার কম সিনেমায় কাজ করেছি বলে এক ধরনের অতৃপ্তি রয়ে রয়ে গেছে। তাঁর সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে বলে শেষ করা যাবে না। শুটিংয়ের সেটে তিনি আমার নাম কখনোই সঠিকভাবে উচ্চারণ করতেন না। চাম্পা বলে ডাকতেন, যা শুনে মজা লাগত। 'সুন্দরী'র শুটিং দেখতে কয়েকবার তাঁর সেটে গিয়েছি। দেখেছি, হঠাৎ করে তাঁর মাথায় কিছু চলে আসত ম্যাজিকের মতো। একজন শিল্পীর ভেতরের 'সত্তা' অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। তাঁর মধ্যে এমন কিছু গুণ আছে, যা অনেকের মধ্যেই নেই। তিনি কেবল একজন গুণী পরিচালকই ছিলেন না, জনপ্রিয় অনেক গানের স্রষ্টাও। তাঁর লেখা 'জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো', 'আমি আছি থাকব ভালোবেসে মরব', 'হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ', 'একবার যদি কেউ ভালোবাসত'সহ অনেক কালজয়ী গান শ্রোতাদের মুখে ফিরে। তিনি চলচ্চিত্রে গল্প লিখতেন, অভিনয় করতেন, পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিমানুষ হিসেবে ছিলেন অমায়িক। একদম নিরীহ, চুপচাপ। আজকে তিনি যদি থাকতেন তাহলে ইন্ডাস্ট্রি অনেক দূর এগিয়ে যেত।