"কষ্ট যতই হোক মাথা পেতে নেব। তবু চাই চরিত্র পর্দায় বাস্তব করে তুলে ধরার জন্য বাধ্য করা হোক। কিন্তু চাইলেও সুযোগ খুব একটা পাই না। কারণ অনেক নির্মাতাই এখন দায়সারা কাজ করে যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করাতে পারলেই তাঁরা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। তাই অভিনয় দিয়ে ভালো কিছু করতে চাওয়া সংগ্রাম করার মতো। যথেষ্ট হয়েছে, এভাবে আর কাজের সংখ্যা বাড়াতে চাই না। মন যে কাজে সায় দেবে না, তা করতেও চাই না। এমন ভাবনার কারণেই অভিনয়ে আগের মতো ব্যস্ততা নেই। তারপরও 'আড়াই মন স্বপ্ন', 'স্পটলাইট'-এর মতো আরও কিছু নাটক, টেলিছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে; যেগুলো আমার শিল্পীসত্তাকে খুশি করেছে। তাই এ ধরনের কাজের মধ্য দিয়েই অভিনয় জীবনের বাকি পথ পাড়ি দিতে চাই।" এক নিঃশ্বাসে এ কথাই বলে গেলেন অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস।
তাঁর কথা থেকে বোঝা গেল, পরিচিতি কিংবা জনপ্রিয়তার মোহে এখন আর তিনি অভিনয় করতে চান না। বরং কাজের মধ্য দিয়েই দর্শকমনে দাগ কাটতে চান। এও জানালেন, অভিনেত্রীর পাশাপাশি নৃত্যশিল্পী, মডেল, উপস্থাপক হিসেবেও পর্দায় নিজেকে তুলে ধরছেন। কিন্তু এখন সব মনোযোগ অভিনয়ের দিকেই। ভালো চিত্রনাট্য, চরিত্র, নির্মাতা পেলে নিজেকে উজাড় করে কাজ করে যেতে চান। তাঁর এই কথার প্রমাণ পাওয়া যায়, চলতি ধারাবাহিক 'আগুনপাখি'র দিকে চোখ রাখলে। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকে তাঁর অভিনয় এরই মধ্যে মনোযোগ কেড়েছে দর্শকের।
নাটকের আমেরা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে তিনি বলেন, "কালজয়ী সাহিত্যের যে কোনো চরিত্র পর্দায় তুলে ধরা চ্যালেঞ্জিং। গল্পের প্রেক্ষাপট, সেই সময়ের মানুষের জীবনযাপন, সামাজিক অবস্থান থেকে শুরু করে নানা বিষয় মাথায় রাখতে হয়। এরপর চরিত্রকে আত্মস্থ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সাবলীলভাবে অভিনয় করে যাওয়া মোটেও সহজ নয়।'আগুনপাখি' নাটকে অভিনয় করা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল এ কারণে, এতে দেশভাগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ধর্মীয় ভেদাভেদ, দেশভাগ, শিকড় উপড়ে এক ভূখণ্ড থেকে আরেক ভূখণ্ডে পা রাখার মতো ঘটনাগুলো এতে উঠে এসেছে। হাসান আজিজুল হকের গল্পের যে বুনন- সেটি যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, সেদিকেও নির্মাতা পারভেজ আমিনকে লক্ষ্য রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি শুটিংয়ের জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যাওয়া, বিরূপ আবহাওয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়া- এ সবকিছু মিলিয়ে 'আগুনপাখি' আমার ক্যারিয়ারে ব্যতিক্রমী একটি কাজ হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে এ উপলব্ধি হয়েছে, সেরা অভিনয়ের পাঠচক্রের জন্য আরও অনেক আগুনপাখি প্রয়োজন।"
মৌটুসীর এই কথা থেকে বোঝা গেল, অভিনয়ের ক্ষুধা তাঁর ক্রমেই বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে অভিনয়ের পাঠ নিতেও মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। সে কারণেই থিয়েটার বটতলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রচনা করে যাচ্ছেন অভিনয় জীবনের নতুন অধ্যায়।