১ ডিসেম্বর ২০২২
ভোর সাড়ে ৫টা :প্রতিদিনই আজানের সুমধুর আওয়াজ কানে আসতেই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ি। এরপর নামাজ শেষ করে ব্যস্ত হয়ে যাই সারাদিনের কাজকর্ম নিয়ে। এ দিনও খুব ভোরে উঠেই নামাজ পড়ে ঘরদুয়ার গোছানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
সকাল ৮টা :আমার মেয়ে তেজি কাজে যাবে, ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় ওর তাড়াহুড়ো। প্রায়ই সকালের নাশতা না করেই চলে যায় অফিসে। এ দিনও তাই হলো। আমিও বেশ কিছুদিন ধরে সকালে গরম পানি ছাড়া কোনো কিছুই খাচ্ছি না। আমার জন্য ওঁর [স্বামী ইজাজ খান স্বপন] খাওয়া-দাওয়াও কমে গেছে। তাই শুধু একটা কলা আর ডিম খেয়েই রওনা হলো অফিসে। আর আমার ছেলে বীরবল যখন যা রান্না করি চুপচাপ খেয়ে নেয়। ওর এডিটিংয়ের কাজ থাকলে রাতের খাবারও বাইরে খেয়ে নেয়। কখনও আবার মধ্যরাতে উঠে আমাকে ডেকে বলে, 'আম্মু খিদে পেয়েছে, কিছু খেতে দাও, নইলে ঘুম হবে না।'
সকাল ১১টা :পুরো বাসা ফাঁকা। কী আর করার, গুনগুন করে গাইতে গাইতে দেখে নেওয়ার চেষ্টা করলাম কোনো কাজ বাকি আছে কিনা। এই সময়টা মন কেমন উদাস হয়ে যায়। তাই কখনও কখনও স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসি। ভাবি, জীবনটা একেবারে মন্দ নয়। এই যে গোছানো সংসার, সাধারণ জীবনযাপন- এটাইবা ক'জন পায়! আমি সত্যি ভাগ্যবান।
দুপুর ১টা :গানের রেকর্ডিং বা মিউজিক ভিডিও শুটিং ছিল না। তাই একটু অলস ঘুম দিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে রান্নাবান্না, গোসলসহ রুটিন বাঁধা কাজগুলো করলাম। মাঝেমধ্যে একটু মুখরোচক খাবার তৈরি করতে ভালো লাগে। আমার তৈরি করা হালুয়া তেজি, বীরবল যতটা না পছন্দ করে, তার চেয়ে বেশি পছন্দ ওদের বাবা। তবে ছেলেমেয়ে দু'জনের সবচেয়ে প্রিয় পুডিং। যেদিন ওরা বাসায় থাকে, সেদিন চেষ্টা করি বিকেলের নাশতায় এই খাবারগুলো টেবিলে রাখতে।
বিকেল ৪টা :অনেকেই জানে না, আমি লম্বা সময় ধরে একনাগাড়ে হাঁটতে পারি। হেঁটে হেঁটে চলে গেছি ডাক্তার দেখাতে। আর সপ্তাহে চার-পাঁচ দিন তো মায়ের কাছে যাওয়া চাই-ই চাই। এ দিনও গেছি। নতুন-পুরোনো যত স্মৃতি, দেশ-জাতি-মানুষ-পরিবার যা যা মাথায় এসেছে সেসব নিয়ে গল্পের আসর বসিয়ে দিয়েছি। মা তো আমাদের বন্ধু- তাই আড্ডাও হয় জমজমাট।
সন্ধ্যা পৌনে ৬টা :মনের মধ্যে এখনও এক শিশু বাস করে। তাই তো প্রতিদিনই টিভি খুলে গোপাল ভাঁড়ের কাহিনি দেখি। 'ক্রাইম প্যাট্রল' দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। ফুটবল বিশ্বকাপের এই মৌসুমে সবাই যখন খেলা নিয়ে মশগুল, তখনও আমি গানের অনুষ্ঠান দেখতেই ব্যস্ত। এভাবেই এক সময় রাত আসে, ঘরে ফেরে পরিবারের সদস্যরা। একসঙ্গে খাই। তারপর বিছানায় চলে যাই, নতুন দিনের অপেক্ষায়...।