বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভূমিকা অনেক। সফলভাবে শুল্ক ও ভ্যাট সংগ্রহ করার কারণেই সরকার রাজস্ব আদায়ে সফলতা পেয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সিস্টেম লস কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্মার্ট কর প্রশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করে রাজস্ব আদায় আরও বাড়াতে হবে এনবিআরকে। নিজের সক্ষমতার কারণেই বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে নিজ অর্থায়নে পদ্ম সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এতে দেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে।

আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুইদিনব্যাপী রাজস্ব সম্মেলন-২০২৩ উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত 'জাতীয় উন্নয়নে ভ্যাটের ভূমিকা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন অনেক শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালে সফলভাবে এসডিজি অর্জন এবং ২০৩১ সালে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করবে। সর্বপরি ২১০০ সালে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে হবে বেশি করে। দেশের বাণিজ্য উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করতে হবে, এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় থাকতে হবে। ট্যাক্স আদায়ের পরিধি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পেশাদারিত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এনবিআরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়বে কয়েকগুণ, একই সঙ্গে দেশের সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সক্ষমতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের প্রায় ৮৫ ভাগ রাজস্ব আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তাই রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও বেশি। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে আলোচ্য বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কমিশনার (ভাট অনুবিভাগ) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ও কাস্টম এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শওকত আলী সাদী। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া।