সমুদ্র নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজারো বিস্ময়। এর লোভনীয় উদ্ভিদ থেকে শুরু করে সুন্দর সামুদ্রিক জীবন। তবে এখনও এ সম্পর্কে অনেক কিছুই উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। আপনি যদি শিগগিরই সাগরে সাঁতার কাটার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এর সঙ্গে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একটি জিনিসের দিকে নজর রাখতে হবে, তা হলো সমুদ্রের লাল তরঙ্গ।

‘লাল তরঙ্গ’ এমন এক শব্দযুগল, যা এক বিষাক্ত অণুজীবের জোয়ারকে নির্দেশ করে। এটি পানিতে লাল বিবর্ণতা সৃষ্টি করতে পারে। এ লাল জোয়ারের বৈজ্ঞানিক নাম ‘কারেনিয়া ব্রেভিস’। এই অণুজীব চক্রবৃদ্ধিহারে সংখ্যা বাড়ায় এবং এর ফলে ক্ষতিকারক শৈবাল বৃদ্ধি পায়।

ভীতিকরই বটে, এটি সামুদ্রিক জীবন এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। লাল জোয়ার তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে একটি বিষ তৈরি করে। এ লাল তরঙ্গ প্রতি বছরই ফ্লোরিডার উপকূলে ফিরে আসে, তাই ফ্লোরিডা যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে আরেকবার ভেবে নিন। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের মতে, মানুষের শ্বাসকষ্টের সমস্যা এবং সামুদ্রিক জীবনের জন্য মৃত্যু শুরু হয় তখন, যখন লাল তরঙ্গে অণুজীবের মাত্রা প্রতি লিটার পানিতে ১০ হাজার কোষ ছাড়িয়ে যায়। ফ্লোরিডার কোনো কোনো উপকূলে এ মাত্রা ১০ লাখ কোষ প্রতি লিটার পর্যন্ত হয়।

লাল তরঙ্গের প্রভাবে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, পক্ষাঘাত এবং এমনকি সমুদ্রের প্রাণীদের জন্য মৃত্যুর কারণ করতে পারে। লাল তরঙ্গ থেকে আসা বিষাক্ত শ্বাস গ্রহণ করলে শ্বাসকষ্টের বিভিন্ন লক্ষণ অনুভূত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা কাশি। এ ছাড়াও, ত্বকের জ্বালাপোড়া হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। লাল তরঙ্গের সংস্পর্শে এলে চোখ ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা ফুসকুড়ি হতে পারে। হাঁপানি থাকলে বা আগে থেকে শ্বাসকষ্ট থাকলে আপনাকে অবশ্যই এই লাল শেওলা এড়িয়ে চলতে হবে।

এ বছর জুনো বিচ পিয়ার থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নেওয়া পানির নমুনায় দেখা যায়, সেখানে লাল জোয়ারের পটভূমির জন্য ইতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছিল। ২২ ফেব্রুয়ারি আবার যখন পরীক্ষা করা হয়, তখন লাল জোয়ারটি সম্পূর্ণভাবে চলে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি সমস্যাটির তীব্রতা বেড়েছে। লাল তরঙ্গ আবার ফিরে এসেছে।

এখন লাল তরঙ্গ দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্লোরিডার একাধিক কাউন্টিতে প্রভাব ফেলছে। তাই সৈকতে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের সতর্ক হতে বলছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরিডার ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন জানিয়েছে, কোলিয়ার, শার্লট, সারাসোটা, মানাটি, লি, পিনেলাসসহ বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে প্রচুর মৃত মাছ এবং মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলোর খবর পাওয়া গেছে। লাল ঢেউয়ে কোনোভাবেই সাঁতার কাটা উচিত নয়। কারণ তা আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে, লাল ঢেউ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রভাবিত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাক্রমে লাল ঢেউয়ের সংস্পর্শে এলে ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাবান ও পানি দিয়ে শরীর ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। শ্বাসকষ্টের উপসর্গ থাকলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় সময় কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের মতো অবস্থা থাকলে অ্যান্টিহিস্টামিন গ্রহণের কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের এ লাল তরঙ্গ দূর থেকে দেখতে সুন্দর। তবে মনে রাখতে হবে, সব সুন্দরই সুখকর হয় না। তাই সমুদ্রের এ লাল সৌন্দর্য এড়িয়ে চলাটাই শ্রেয়।