ঢাকা বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

অল্প-স্বল্প রম্য গল্প

‘বিবিসি টং’ থেকে

‘বিবিসি টং’ থেকে

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

বাড়িতে বেশ কিছু আসবাব মেরামতের জন্য মিস্ত্রি দরকার। কিছু কাঠও রেডি করেছি। গ্রামের ‘বিবিসি টং’খ্যাত চায়ের দোকানে এক কাপ চায়ের বিল খরচা করে নিজে মডেল হয়ে মুখে বিজ্ঞাপন প্রচার করে এলাম। পুনরায় প্রচার হওয়ার আগেই বাড়িতে লোক এসে হাজির।

আমি বাড়িতে এসে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে পরিচিত এক ‘কমিশনখেকো’ লোক একজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি এলো। সে রোগা-সোগা এক ছেলেকে দেখিয়ে বলল, ‘স্যার, এই নিন আপনার মিস্ত্রি!’

লোকটা আমার পরিচিত হলেও, মিস্ত্রি অপরিচিত। কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেবে এই আশায় এনেছে হয়তো। মিস্ত্রির আগাগোড়া দেখে আমার মনে ধরল না। মনে হচ্ছে হালকা বাতাসে দুলছিল। একটু জোরে বাতাস এলেই মাটিতে গড়িয়ে পড়ে যাবে।
‘এই ছেলেকে দিয়ে কি আমার কাজগুলো হবে?’ আমি প্রশ্ন করলাম।
হবে মানে! ছেলে তো ‘আগুনের গোলা’ ! সে তার হলুদ দন্তের ওপরের পাটি বিকশিত করে আমাকে বোঝাতে লাগল। ‘কী বলছ?’
জি স্যার। শুধু তাই নয়, আগুনের গোলা খেয়ে ব্যাটা ‘কয়লা’ ত্যাগ করে! আমি চোখ বড় বড় করে বললাম, ‘নারে বাবা! একে আমার কোনো কাজ দিতে পারব না।’
‘কেন স্যার?’
আমি বললাম, ‘শেষে আমার সব কাঠ খেয়ে কয়লা ডেলিভারি দিয়ে চলে যাবে। বরং সম্ভব হলে ওকে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে কাজে লাগাও...।’

অতিরিক্ত চাপাবাজি বা প্রশংসা সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। মিস্ত্রির এমন আজব প্রশংসা শুনে আমি বিরক্ত। ‘পোলাত নয় যেন একখান আগুনেরই গোলারে... ’ এই রকম একটা গানও শুনেছিলাম।

যাহোক, আমার বিরক্তিভাব দেখে তারা চলে যাচ্ছিল। আমি পেছন থেকে কমিশনখেকোকে আবার ডাকলাম। হলুদ দন্তের দুই পাটি একসঙ্গে প্রদর্শন করে জানতে চাইল, কাজ পাচ্ছি স্যার?

আমি বললাম, ‘না, ফ্রিতে একটা উপদেশ দিতে ডেকেছি....।’
কী স্যার? ‘আগামীতে আসার আগে ওর থেকে কয়টা কয়লা নিয়ে দন্তের রং পরিবর্তন করে তবেই আসবে।’

সভাপতি সুহৃদ সমাবেশ, ছাগলনাইয়া (ফেনী)

আরও পড়ুন