ঢাকা বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

সুযোগ আছে এক পাতার রিটার্ন জমার

সুযোগ আছে এক পাতার রিটার্ন জমার

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৮। এর অর্থ প্রতি ১০০ টাকার জিডিপির বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় মাত্র ৮ টাকা। এ হার শুধু প্রতিবেশী দেশ নয়, বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও সরকারি হিসাব বলছে, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এটা সত্য হলে করযোগ্য আয়ের মানুষের সংখ্যাও বাড়ার কথা। তা হচ্ছে না। এর অনেক কারণের একটি হচ্ছে করযোগ্য আয় থাকার পরও কর প্রদানে নানা ভীতি। বিশেষ করে আয়কর রিটার্নে তথ্য পূরণ নিয়ে।

অভিজ্ঞদের মতে, কার কত আয় হলো, তা হিসাব করা একটু জটিল হিসাবই বটে। কিন্তু আয়, ব্যয় এবং সম্পদের তথ্য কীভাবে রিটার্নে উল্লেখ করবেন, তা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে ভোগেন। বর্তমান আয়কর রিটার্ন ফরমটি অনেকটা সহজ। তবুও অঙ্কের ভীতি যাদের মধ্যে কাজ করে, এমন অনেক মানুষের কাছে এ ফরমও দুর্বোধ্য মনে হয়। তাই অনেকে আয়কর রিটার্নের তথ্য পূরণ করতে আয়কর আইনজীবীদের শরণাপন্ন হন। অথচ যেসব মানুষের আয় করযোগ্য সীমার ওপরে থাকলেও তা খুব বেশি না হলে তারা চাইলে খুব সহজে মাত্র এক পাতার রিটার্নে আয়, ব্যয় ও সম্পদের বিবরণ দিতে পারেন।

আপনার আয় যদি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি হয় এবং তা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা হয়, তবে আয়-ব্যয় ও সম্পদের সাধারণ কিছু তথ্যসংবলিত এক পাতার রিটার্ন জমা দিয়েও আপনি গর্বিত আয়কর দাতা হতে পারেন। অর্থাৎ কারও মাসিক আয় ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা বা কম হলে তিনি এ সুযোগ নিতে পারেন। কম আয়ের মানুষের জন্য আয়কর প্রদানে উৎসাহিত করতে সহজ রিটার্ন জমার ব্যবস্থা করেছে এনবিআর। ফলে এমন আয়কর দাতাদের আইনজীবীর মাধ্যমে রিটার্ন পূরণ করে ‘খাজনা থেকে বাজনা বেশি’ হওয়ার দরকারই নেই।

এ ক্ষেত্রে আরও কিছু শর্ত আছে। যেমন– এক পাতার রিটার্নে আয়কর দেওয়ার সুযোগ নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আয়কর দাতার মোট সম্পদ মূল্য ৪০ লাখ টাকার বেশি হতে পারবে না। তার মালিকানায় কোনো মোটরযান থাকতে পারবে না। তাছাড়া এমন কোনো ব্যক্তি এ সুবিধা পাবেন না, যিনি দেশের কোনো সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের মালিক বা বিদেশে কোনো সম্পদ আছে অথবা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক।

এক পাতার আয়কর রিটার্নে যা থাকতে হয়

এক পাতার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমত করদাতাকে তার আয়ের উৎস বিষয়ে তথ্য দিতে হবে। রিটার্নে তার মোট সম্পদের বিবরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে মোট আয় এবং আরোপযোগ্য করের তথ্য দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো কর রেয়াত, প্রদত্ত কর, উৎসে পরিশোধিত কর, রিটার্নের সঙ্গে পরিশোধিত করের পরিমাণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও উল্লেখ করতে হবে।

কোথায় নমুনা ফরম মিলবে

আয়কর রিটার্ন ফরম সব আয়কর অফিসে পাওয়া যায়। এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটেও এ ফরম পাওয়া যায়। এনবিআরের যে পেইজে এ ফরম পাবেন, তা হলো https://nbr.gov.bd/form/income-tax/eng। এখানে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন আইটি ঘ-২০২৩ (ডিওসি) বা স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার রিটার্ন আইটি ঘ-২০২৩ (পিডিএফ) নামে লিংক ক্লিক করে পেতে পারেন।

দেখে নিন আয়কর নির্দেশিকা

আয়কর আইন বুঝতে বা নিজে নিজে সহজে রিটার্ন পূরণ করতে আয়কর নির্দেশিকা প্রকাশ করছে এনবিআর। এ নির্দেশিকায় সর্বশেষ আয়কর আইন অনুযায়ী, কীভাবে আয়কর হিসাব করতে হবে, আয়কর রেয়াত নেওয়া যাবে তার উদাহরণসহ বর্ণনা আছে।

মোট কথা আয়কর আইন সহজবোধ্য করা হয়েছে আয়কর নির্দেশিকার মাধ্যমে। চাইলে যে কেউ নির্দেশিকাটি ডাউনলোড করে আয়করের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বুঝে নিতে পারেন। এনবিআরের ওয়েবসাইটের হোমপেজের ‘লেটেস্ট আপডেট’ অপশনের নিচে ‘মোর’ (More)-এ ক্লিক করলে একটি তালিকা আসবে। এ তালিকায় আয়কর নির্দেশিকার পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করার অপশন মিলবে, যা প্রকাশ করা হয়েছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর।

আরও পড়ুন