ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

পরিবেশবান্ধব ট্রেন

পরিবেশবান্ধব ট্রেন

বিদ্যুৎ, ডিজেল, ব্যাটারি– তিন মাধ্যমেই চলে এই পরিবেশবান্ধব ট্রেন

হিল্লোল চৌধুরী

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১২:৫৫

ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও কার্বন নির্গমন এড়ানোর চাপ বাড়ছে। ইতালিতে জাপানের হিটাচি কোম্পানি এ ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা অগ্রসর হয়েছে। ইউরোপের আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, ইতালির টাস্কানি অঞ্চলে এখনই সেটা দেখার সুযোগ রয়েছে। সেখানে হিটাচি ব্যাটারিচালিত ‘ব্লুস’ ট্রেন চালানো হচ্ছে।

হিটাচির প্রতিনিধি মার্কো সাকি বলেন, ‘ইতালির উত্তরে হিটাচি কোম্পানির পিস্টোরিয়ার কারখানায় ব্লুস ট্রেন তৈরি করা হয়। জাপানে কোম্পানির সদরদপ্তরের সহায়তায় এই ট্রেন উদ্ভাবন করা হয়।’ প্রকৌশলী মার্কো সাকি ও তাঁর টিম করোনা মহামারির সময়ে এই ট্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করেন। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০টি ট্রেন লাইনে নামানো হয়েছে। মার্কোর মতে, ‘‘ব্যাটারি ও ডিজেলের মেলবন্ধনই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত ডিজেল ট্রেন তৈরি করা তেমন কঠিন কাজ নয়। ডিজেলের পাশাপাশি ব্যাটারি চালু করে জ্বালানির ব্যবহার কমানোই ছিল ‘ডিসরাপটিভ’ প্রযুক্তি।’’ 

প্রতিটি কামরায় দুটি করে ব্যাটারি বসানো আছে। ফলে এই ট্রেন প্রচলিত ডিজেল ট্রেনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ট্রেন চলার সময়েই ব্যাটারি চার্জ করা যায়। এমনকি ইলেকট্রিক গাড়ির মতো ব্রেক থেকে পাওয়া শক্তিও সেই কাজে লাগানো হয়।

লাইনের যেসব অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, সেখানে ওভারহেড তার থেকে শক্তি আসে। এখনও ডিজেল ইঞ্জিনের প্রয়োজন থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে ট্রেন পুরোপুরি জ্বালানি তেল ছাড়াই চলবে। হিটাচি রেলের কর্মকর্তা লুকা দাকিলা বলেন, ‘সম্ভবত ২০৩০ সালে পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত অথবা হাইব্রিড প্রযুক্তির প্রায় তিন হাজার নতুন ট্রেন বাজারে আসবে। আমাদের হাইব্রিড একটি ভালো সমাধান। এবার আমরা বছরখানেকের মধ্যেই পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত ট্রেন বাজারে আনব। যেসব এলাকায় ইলেকট্রিক লাইন নেই, সেখানকার চাহিদা মেটাতে এটি স্মার্ট সমাধান হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

বিশেষ করে টাস্কানির মতো ইউরোপের গ্রামাঞ্চলে ওভারহেড ইলেকট্রিক তারের অভাব রয়েছে। রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতীকরণ বেশ ব্যয়বহুল কাজ। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে এমন উদ্যোগের আর্থিক লাভ নেই তেমন।

ফ্লোরেন্স শহর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে বর্জো সান লোরেন্সো নামের টাস্কানির ছোট এক গ্রাম। সেখানকার বেশির ভাগ ট্রেন বিকট শব্দ ও পরিবেশ দূষণ করে। কিন্তু কয়েক মাস আগে নতুন ট্রেনগুলো স্টেশনে ঢোকা ও বের হওয়ার সময় ডিজেল ইঞ্জিন বন্ধ করে দিচ্ছে।

এসব ট্রেন যে আরও পরিবেশবান্ধব, টাস্কানির মানুষ সে বিষয়েও সচেতন। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় গত বছর শরৎকালেই ওই অঞ্চলে বিশাল বন্যা দেখা দেয়। লুকা দাকিলা বলেন, ‘আমাদের মতে, দূষণ ও কার্বন-ডাইঅক্সাইড নির্গমন কমাতে মাঝারি মেয়াদে ব্যাটারিই সেরা উপায়। আমরা জানি, আমাদের প্রতিযোগীরা অন্যান্য সমাধানের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে। আমরা খুশিমনে পাল্লা দিতে প্রস্তুত। হাইড্রোজেনের মতো কিছু সমাধান নিয়ে আমরা জাপানে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছি।’

ব্যাটারির সুবিধা হলো– প্রচলিত ট্রেনেই সেগুলো বসানো যায়। ইন্টারসিটি ট্রেনগুলো অদূর ভবিষ্যতে ব্যাটারি ব্যবহার করতে চলেছে। শুধু টাস্কানি অঞ্চলে হিটাচি কোম্পানিই নয়, জার্মানির সিমেন্স এবং ফ্রান্সের আলস্তোম এই নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। গোটা ইউরোপে এমন ট্রেন দেখতে বেশিকাল অপেক্ষা করতে হবে না। সৌজন্যে: ডয়চে ভেলে

আরও পড়ুন

×