ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

শুরু হলো যেভাবে

শুরু হলো যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪ | ১৩:০৫

ফুটবলবিশ্বে কৃত্রিম টার্ফ এসেছে অনেক আগেই। তবে সেই ছোঁয়া বাংলাদেশে লেগেছে অনেক পরে। শুরুতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন-সংলগ্ন বালুর মাঠে বসানো হয়েছিল টার্ফ। তবে সেটি ছিল শুধু অনুশীলনের জন্য। টার্ফের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল টুর্নামেন্ট হয় ২০১৫ সালে।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের সেই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভিক্টোরিয়া ও বারিধারা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ফুটবলে অভিষেক হয় টার্ফের মাঠের। 

আগে বর্ষা মৌসুমে কাদা থিকথিকে মাঠে খেলতে হয়েছে ফুটবলারদের। টার্ফের মাঠে বড় সুবিধা, এখানে ১২ মাসই খেলা যায়। তাছাড়া এটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ঘাসের মাঠের চেয়ে কম। তবে টার্ফের নেতিবাচক দিকও আছে। তীব্র গরমে খেলা যায় না। ফুটবলারদের বেশি শক্তি ক্ষয় এবং চোট-আঘাত বেশি হয় বলেও আলোচনা আছে। যদিও বাফুফে বলছে, ফিফার গবেষণা অনুযায়ী টার্ফে চোট তুলনামূলক কম হয়। কারণ, ইনডোর এই মাঠগুলোয় রাবারের তৈরি এক প্রকার কৃত্রিম ঘাস লাগানো থাকে, তাতে চোট লাগার ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। এজন্য সারাবিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে টার্ফের মাঠ।

২০১৫ সালে টার্ফের গায়ে লাগা হাওয়া উন্মাদনা ছড়ায় ২০১৮ সালে। সেবার মাঠ রক্ষার আন্দোলন নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়। সেই গ্রুপের চিন্তা থেকেই গণজোয়ার আসে টার্ফের মাঠে। যদিও শুরুতে তাদের শঙ্কা ছিল, বাণিজ্যিকভাবে এই টার্ফের মাঠ আসলে কতটা সফল হবে। কিন্তু বাইরের দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোয় কিছুদিনের মধ্যে দূর হয়ে যায় তাদের সেই শঙ্কা।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রথম কৃত্রিম মাঠ

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ২০১৮ সালের মাঝামাঝি একটি ফুটবল দল সর্বপ্রথম ‘এনডিসি স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি’ নামে একটি কৃত্রিম মাঠ তৈরি করে। এটি শুধু তাদের নিজেদের খেলাধুলার জন্য তৈরি করা হয়। ওই বছরের শেষের দিকে বসুন্ধরায় ১৬ কাঠা জমিতে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ‘জাফ এরিনা’ নামে আরেকটি কৃত্রিম মাঠ চালু করা হয়। এর পর এনডিসি স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাঠ ভাড়া দেওয়া শুরু করে।

একের ভেতর অনেক কিছু

চট্টগ্রাম নগরীতে ২০২২ সালে চান্দগাঁও আবাসিকসংলগ্ন ৪০ কাঠা জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে ‘ফরচুন স্পোর্টস এরিনা’। চট্টগ্রামের বনেদি ব্যবসায়ী চান মিয়া সওদাগর পরিবারের পাঁচ তরুণ মিলে নগরীর চান্দগাঁওয়ে তৈরি করেন এটি। এর উদ্যোক্তা সায়মন সাদাত বলেন, ‘আমরা নিজেদের ৪০ কাঠা জমিতে পুরো প্রকল্পটি করেছি। টার্ফকোর্টের প্রচলিত ধারার বাইরে আমরা আরও কিছু সেবা যুক্ত করেছি। আমাদের কোর্টে দুই দলে মোট ১৬ জন খেলতে পারেন। মাল্টিপল প্লেয়িং ফিল্ড, অর্থাৎ একই মাঠে একাধিক খেলার ব্যবস্থা রয়েছে।’ 

চট্টগ্রামে অভিষেক ২০২০ সালে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় ২০২০ সালে নিজস্ব জমিতে প্রথমবারের মতো টার্ফকোর্ট তৈরি করেন এশিয়ান অ্যান্ড ডাফ গ্রুপের পরিচালক ওয়াসিফ সালাম। প্রায় ৩৫ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে কৃত্রিম এই মাঠটি করা হয় শুধু তাঁর নিকটজনের খেলার জন্য। শুরুতে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হয়নি এই মাঠটি। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক কাজেই বেশি ব্যবহার হতে থাকে টার্ফের মাঠ। বাড়তে থাকে মাঠের সংখ্যাও।

টার্ফ মাঠের উদ্যোক্তা ইশমাম চৌধুরী বলেন, ‘এক একর জায়গাজুড়ে আমাদের প্রকল্পটি করা হয়েছে। এখানে ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, পেইন্ট বল, টেবিল টেনিস, বাস্কেট বল কোর্টের পাশাপাশি ভিআর ও কিডস গেম জোন রয়েছে।’ নগরীর বায়েজিদ লিংক সড়ক এলাকায় টার্ফকোর্ট তৈরি করছেন পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনের ছেলে ভিক্টর মহসিন।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় অ্যাস্ট্রো টার্ফকোর্ট তৈরি করছি আমরা। প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে টার্ফ করেছি আমরা। এখানে ইনডোর ব্যাডমিন্টন, বাস্কেট বল, ক্রিকেট কোর্টও রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×