ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

পাঠকের লেখা

মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা

মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা

প্রতীকী ছবি

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ০৯:০১

মা মানেই শান্তির পরশ। বিপদের বন্ধু, পৃথিবীতে দুঃখের সঙ্গী একমাত্র মা-ই। মাকে নিয়ে প্রত্যেক সন্তানের জমে আছে নানান অনুভূতি। না বলা অনেক কথা মাকে বলার জন্য প্রতিনিয়ত ছটফট করে সন্তানের মন। বাবা বাইরের দুনিয়াটা দেখেন, পরিবারের অন্যরা নিজ নিজ কাজ করেন। কিন্তু শিশুটির কাছে মা-ই হলো তার পৃথিবী।

আমার মাও এর ব্যতিক্রম নন। আমার জন্ম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। বাবা দেশের বাইরে থাকায় নানাবাড়িতেই বেড়ে ওঠা। মায়ের আঁচলে। হয়তো এজন্যই ছোটবেলার সব স্মৃতিই মাকে ঘিরে। মনে পড়ে, মা তখন চাকরি করতেন। কেবল আমাকে দেখভাল ও বেশি সময় দেওয়ার জন্য চাকরিটা ছেড়ে দেন। সংসারে মন দেন। সেই দিনগুলোতে রোজ বাড়ির নিচ তলায় ঘুমালেও, ঘুম ভাঙত দোতলায়।

এটা কীভাবে? আসলে মা ঘুমন্ত অবস্থায় কোলে তুলে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিতেন। আর কোন কাজটা করলে আমার ভালো হবে, তাই করতেন। মাকে ছাড়া কিছুই বুঝতাম না। কারণ আমার ভাইবোন ছিল না। তবে একটু বড় হওয়ার পরই হাহাকার লেগে গেল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর বাবা আমাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন মঠবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনে। নিজেকে তখন সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো মনে হতে লাগল। এ যেন বাঁধনহারা! 

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় একবার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে একটা কমলা কিনে খোসা ছাড়িয়ে খেতে যাব, এমন সময় মায়ের কথা মনে পড়ল। হায় হায়, আমি মাকে না দিয়ে একা খাব এটা মেনে নিতে পারছিলাম না! 

২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি মায়ের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। আমি তখন দেশের বাইরে থাকি। করোনার ছোবলে বিশ্ব যখন স্থবির হয়ে যায় ওই সময়টায় আমাকে স্থবির আর মূক করে দিয়ে মা চলে যান আকাশের দেশে। ওটাই ছিল মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা। মা সম্পর্কে ভাবতে হয় না; কতো কতো স্মৃতি উঁকি দেয় মনে। মা যেন মেঘের মতো এখনও ছায়া দিয়ে যান আমাকে। মায়ের কথা গভীর রাতেও মনে পড়ে। বুকটা তখন হু হু করে। ভারি হওয়া এই বুকটায় যদি মা একবার হাতের পরশ বুলিয়ে দিতেন আর কোনো দুঃখ থাকত না। তখন আকাশ-বাতাস ভারি করে চিৎকার দিয়ে মাকে ডাকতে ইচ্ছে করে। পাশে পেতে ইচ্ছে করে! 

আরও পড়ুন

×