কানাডার লন্ডন শহরে এক মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনাটিকে ‘মুসলিম বিদ্বেষ থেকে ঘটানো সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

হাউজ অব কমন্সে এক বক্তৃতায়এ ঘটনায় জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘এটা নিছক কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। সমাজের ঘৃণিত অংশের এক সদস্য তীব্র মুসলিমবিদ্বেষ থেকে এই জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা করেছে। এমন হামলা বন্ধ হওয়া উচিৎ।’ 

খবর এএফপির।

কানাডার ডিটেকটিভ সুপারিটেনডেন্ট পল ওয়েইট এএফপিকে জানিয়েছেন, গত রোববার কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন পাঁচ সদস্যের মুসলিম পরিবারটি। এসময় তাদের উপর চলন্ত ট্রাক উঠিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে চার জন মারা যান। পরিবারের নয় বছর বয়সী এক ছেলে আহত অবস্থায় এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  

পল ওয়েইট জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সাত কিলোমিটার দূরে একটি শপিংমল থেকে বডি আর্মার পরিহিত অবস্থায় ২০ বছর বয়সী সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্দেহভাজন পুলিশকে তার নাম বলেছেন, নাথানেইল ভেইল্ট।

হত্যাকাণ্ডের দায়ে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা এই কাণ্ডকে ‘ইসলামবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে’ উল্লেখ করে মামলা পরিচালনা করতে আদালতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। কানাডার জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার বলছেন, ‘ইসলামফোবিয়া থেকে ঘটানো এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত।’

আহত বালকটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, “আমরা আশা করছি ছেলেটা খুব দ্রুত সেরে উঠবে, যদিও কাপুরুষোচিত এই হামলার দুঃসহ স্মৃতি সে অনেক দিন বয়ে বেড়াবে।’ 

লন্ডন শহরে এ ঘটনাটি ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কিউবেক সিটির মসজিদে হামলা ও ২০১৮ সালে টরন্টোতে গাড়ি চালিয়ে ১০ জনকে হত্যার ঘটনাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। 

গত মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় নাগরিকরা ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন নিহতদের।

বিষয় : কানাডা জাস্টিন ট্রুডো হত্যাকাণ্ড

মন্তব্য করুন