সরকারি ত্রাণ সহায়তার চাল (জিআর) বিতরণের তালিকা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করার সুপারিশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

করোনাকালে ত্রাণের বিভিন্ন বরাদ্দ আমলাদের মাধ্যমে বিতরণের কারণে সংসদ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও এসব কাজে তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে না। 

সূত্র জানায়, বৈঠকে একাধিক সদস্য অভিযোগ তোলেন, তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হয় না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা জানেনও না। বৈঠকে একজন সদস্য ত্রাণ বরাদ্দের পাশাপাশি মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ প্রকল্পে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ কমিটি একই সুপারিশ করেছিল। 

বুধবারের বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, জিআর বরাদ্দের ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-১৩ কার্যকর আছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে জিআর বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে বণ্টন ও বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন একাধিক সদস্য।

কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও কাজী কানিজ সুলতানা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, সদস্যদের অনেকে বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা শতভাগ প্রতিপালন করা হচ্ছে না। এ জন্য তারা চিঠি বা নির্দেশনার কপি স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও পাঠাতে বলেছেন। 

জিআর বরাদ্দে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারা দেখেছেন গৃহহীনদের দেওয়া ঘর অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে। নদীর পাড়, পুকুরপাড়, নিচু জমিতে ঘর করা হয়েছে। এতে সরকারেরও ক্ষতি হচ্ছে। এ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কাজ যেন সময় নিয়ে টেকসই করা হয়, সেটা তারা বলেছেন। গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও বলেছেন।