তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে তৈরির লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশ। 

এই চুক্তির আওতায় শেভরনের অর্থায়নে সুইসকন্ট্যাক্টের উত্তরণ প্রকল্প সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে সিলেট শহরে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। 

সম্প্রতি রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক,শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এরিক এম ওয়াকার, শেভরনের পরিচালক (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) ইমরুল কবির, সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুজিবুল হাসান।

শেভরন জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি বিদ্যমান অবকাঠামোকে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করবে। 

প্রাথমিক অবস্থায় চালু হওয়ার পর এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২০০ যুবককে ইলেকট্রিসিটি, প্লাম্বিং পাইপ ফিটিং, ওয়েল্ডিং এবং হাউসকিপিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে।

আরিফুল হক বলেন, ‘দক্ষ কর্মীর অভাব বর্তমানে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা আমাদের প্রতিযোগীদের কাছে ব্যবসা হারাচ্ছি। এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি এবং বাজারে দক্ষতার নিত্য পরিবর্তনশীল চাহিদা সফল ভাবে পূরণ করা।’

এরিক এম ওয়াকার বলেন, ‘কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অসংখ্য উৎসাহী তরুণের কর্মজীবনের পথ সুগম হবে, এর মাধ্যমে তারা নিজেদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ মেয়াদী ও টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করতে পারবে। সমাজে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সমাজের সদস্যদের জন্য শিক্ষা এবং চাকুরির সংস্থানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উত্তরণ প্রকল্পের সময়কাল শেষ হওয়ার পরেও প্রকল্পের মাধ্যমে আনীত পরিবর্তন যাতে দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি সদস্যদের উপকারে আসে সেটা নিশ্চিত করাই এই চুক্তির লক্ষ্য।’

সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মুজিবুল হাসান বলেন, ‘সুইসকন্ট্যাক্ট তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্বাস করে যে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দারিদ্রের শিকল থেকে মুক্ত করা সম্ভব আর উত্তরণ প্রকল্প আমাদের সেই বিশ্বাসকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

শেভরন কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশে ৪ লাখ ৪০ হাজার জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে এবং এ দেশের শ্রমশক্তি প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজার হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৬০ লাখ ৭ হাজার জনগোষ্ঠী।

সুইসকন্ট্যাক্টের তিন বছরব্যাপী প্রকল্প ‘উত্তরণ - উন্নত জীবনের লক্ষ্যে’ বর্তমানে সিলেট ও ঢাকা বিভাগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও প্রকল্পটির লক্ষ্য দুই হাজার যুববকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের উন্নত ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণ চালু করা। 

এছাড়াও বাংলাদেশে প্যাকেজিং শিল্পের চাহিদা পূরণের জন্য উত্তরণ প্রকল্প ‘প্যাকেজিং এবং ফিনিশিং অপারেশন’ নামে একটি নতুন ট্রেড চালু করেছে যা  ইতোমধ্যেই ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এনএসডিএ) যাচাই করেছে।