দেশীয় গ্যাস কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে প্রিপেইড মিটার বসানোর সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আলী আজগর, নুরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম এবং নার্গিস রহমান অংশ নেন।

সংসদীয় কমিটি মনে করে, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য বিদেশি অর্থায়নের প্রয়োজন নেই। দেশের গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নেই এ কাজ করা সম্ভব। গ্যাসের অপচয় রোধে আবাসিক শ্রেণিতে ২০১১ সাল থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। আবাসিক শ্রেণিতে গ্যাসের গ্রাহক মোট ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি অর্থায়নে কয়েকটি প্রকল্পের আওতায় পেট্রোবাংলার আওতাধীন ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির দুই লাখ ৭৩ হাজার ১০০ আবাসিক গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ওয়াসিকা আয়শা খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য সিএনজি স্টেশনগুলোতে রেশনিং করা হচ্ছে। এ মুহূর্তে এটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে হলে অপচয় রোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, এ জন্য প্রিপেইড মিটার জরুরি। গ্যাস কোম্পানিগুলোর যে আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তাতে নিজস্ব অর্থায়নেই প্রিপেইড মিটার বসাতে পারবে। এর জন্য কোনো উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তার দরকার নেই। এটা করতে পারলে গ্যাসের সাশ্রয় হবে।

তেলের পরিবর্তে পানি: গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কৈলাশটিলা এমএসটিই প্ল্যান থেকে রশিদপুর কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন পল্গান্টে কনডেনসেটের পরিবর্তে পানি সরবরাহ সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয় কমিটিতে। বিষয়টি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তাধীন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ওই দিন কনডেনসেট খালাসের সময় সাড়ে চার হাজার লিটার কনডেনসেটের পরিবর্তে প্রায় তিন হাজার ৬০০ লিটার পানি পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর তদন্ত শেষে কনডেনসেট বহনকারী লরির চালককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। লরি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

এদিকে বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাপেক্সের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন পরবর্তী সভায় উপস্থাপন, পেট্রোবাংলার অধীন ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্যাসের বকেয়া আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যত দ্রুত সম্ভব গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিটি গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার সুপারিশ করে কমিটি।