দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউসের মতো কার্পজাতীয় মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। কয়েকদিন থেকে থেমে থেমে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাথমিকভাবে মা মাছ শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে প্রথম ডিমের নমুনা ছাড়ে।

এরপর সোমবার সকালে মা মাছ পুনরায় নমুনা ডিম ছাড়ে। তবে ডিমের পরিমাণ ছিল খুবই কম। উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট বাজার, আজিমের ঘাটা, পুরালিয়া স্লুইসগেট, মাছুয়া ঘোনাসহ হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা-মাছ ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর, শহীদ, শফি ও হাফেজ কবির।

পুরোদমে ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৩ শতাধিক নৌকা নিয়ে শতশত ডিম আহরণকারী নদীতে জাল ফেলে। প্রতি নৌকায় গড়ে ২-৩ কেজি পর্যন্ত ডিম সংগৃহীত হয়। বিকেলে ভাটার সময় ডিমের আশায় নদীতে জাল ফেললেও কাঙ্ক্ষিত ডিম মেলেনি ডিম সংগ্রহকারীদের। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে চলতি পূর্ণিমার জো’তে ডিম না দিলে পরবর্তী পূর্ণিমার জো’তে মা মাছ নদীতে ডিম দিতে পারে বলে ধারণা করছে ডিম আহরণকারীরা।

সাধারণত নমুনা ডিম ছাড়ার পর অনুকূল পরিবেশে মাছ নদীতে পুরোদমে ডিম ছাড়ে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত এই সময়ে অমাবশ্যা ও জো’তে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে ডিম ছাড়ার উপযুক্ত এই সময়ে নদীতে পাহাড়ি ঢলের অনুপস্থিতি ও নদীতে মাছ পুরোদমে ডিম না ছাড়ায় হতাশ হয়ে পড়ছে ডিম আহরণকারীরা।

বংশ পরম্পরায় দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে হালদা নদী থেকে ডিম আহরণ করে আসছেন কামাল সওদাগর (৬০)। তিনি বলেন, শনিবার মধ্যরাতে মা মাছ নদীতে ডিমের নমুনা ছেড়েছে। সোমবার সকালে মাছ পুনরায় ডিম ছাড়ে। আমরা বিকেলে ভাটার সময়ও নদীতে জাল ফেলেছি। ৮ নৌকায় প্রায় ৮০ কেজির মতো ডিম উঠছে জালে; যা মোটেও আশানুরূপ নয়।

হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, সোমবার নদীতে মাছ ডিম ছেড়েছে। সাধারণত পূর্ণিমা ও নদীতে জো থাকাবস্থায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর সত্তারঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত এসব এলাকায় মা মাছ নমনা ডিম ছাড়ে। এবার সে পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সোমবার সকালে মা মাছ পুনরায় নমুনা ডিম ছেড়েছে তবে তা পরিমাণে খুবই কম।

হাটহাজারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ও রাউজান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পিযুষ প্রভাকর জানান, এবারের সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ খুবই কম। কেউ কেউ ১০ কেজির বেশি, কেউবা ৫-৬ কেজি আবার অনেকেই একেবারেই ডিম আহরণ করতে পারেনি। সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ আড়াই থেকে ৩ হাজার কেজি হবে বলে ধারণা করছি।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম বলেন, ‘ডিম ছাড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হালদা নদীতে যাতে কেউ মাছ চুরি করতে না পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বাইরের বিভিন্ন হ্যাচারি ও খামার থেকে ভেজাল পোনা ও রেণু যাতে হালদা তীরবর্তী এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’