বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ব্যালন ডি'র জিতেছেন যারা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

রোনালদো নাজারিও বিশ্বকাপ জিতেছেন, ব্যালন ডি'অর জিতেছেন। কিন্তু বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলানে খেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি তার। ম্যারাডোনার আবার ব্যালন ডি'অর ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হয়নি। মেসি-রোনালদো রেকর্ড ব্যালন ডি'অর জিতেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন একাধিকবার। কিন্তু বিশ্বকাপ অধরা।

অথচ রিকার্ডো কাকা ২৫ মিনিট খেলেও ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বজয়ীদের একজন। পরে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ব্যালন ডি'র জিতেছেন। তিনিসহ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি'অর, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন মাত্র আটজন:

স্যার ববি চার্লটন: ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন চার্লটন। সেমিফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপের পর ওই বছরই তার হাতে ওঠে ব্যালন ডি'অর। ১৯৬৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ইউরোপ সেরার ট্রফি জেতেন তিনি। সময়ের সেরা এই মিডফিল্ডার ফাইনালে করেন জোড়া গোল।

গার্ড মুলার: ১৯৭৪ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতার বছরে ব্যালন ডি'অর পাননি গার্ড মুলার। ওই বছরসহ পরের দু'বছর বায়ার্ন মিউনিখকে ইউরোপ সেরার  পুরস্কার এনে দিলেও ব্যালন ডি'অর পাননি।  তিনি ব্যালন ডি'অর পেয়েছেন ১৯৭০ সালে। যেবার তার দল ইতালির কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেয়। ওই বিশ্বকাপে গার্ড মুলারের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।

ফ্রাঙ্ক বেকেনবাওয়ার: গার্ড মুলারের সঙ্গে মিল আছে ফ্রাঙ্ক বেকেনবাওয়ারেরও। ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যালন ডি'অর  পাননি তিনি। ব্যালন ডি'অর জিতেছেন ১৯৭২ এবং ১৯৭৬ সালে। বায়ার্ন মিউনিখের হ্যাটট্রিক ইউরোপিয়ান কাপ জয়ী দলের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনিও।

পাওলো রসি: ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির হয়ে টুর্নামেন্ট সেরা ছয় গোল করেন পাওলো রসি। বিশ্বকাপ জেতেন। গোল্ডেন বুট জেতেন পরে হাতে ওঠে ব্যালন ডি'অরও। রসি ১৯৮৫ সালে জুভেন্টাসকে ইউরোপ সেরার পুরস্কার জিততে বড় অবদান রাখেন।

জিনেদিন জিদান: ফ্রান্স প্রথমবার ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল তাদের দলে জিদানের মতো একজন ছিলেন বলে। ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলতে বড় অবদান রাখেন জিদান। তবে তিনি ১৯৯৮ সালেই কেবল ব্যালন ডি'অর জেতেন। চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন ২০০২ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে।

রিভালদো: ১৯৯৯ সালে ব্যালন ডি'অর হাতে ওঠে রিভালদোর। ২০০২ বিশ্বকাপে যান দলের অন্যতম তারকা হিসেবে। তার পারফরম্যান্সও ভালো ছিল। তবে ওই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে ব্যালন ডি'অর জেতেন রোনালদো নাজারিও। পরে ২০০৩ সালে মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন রিভালদো। পাঁচ মৌসুম রিয়ালে খেলেও রোনালদোর সেটা জেতা হয়নি।

রোনালদিনহো: ব্রাজিলের হয়ে রোনালদিনহো যখন বিশ্বকাপ যেতেন তখন তিনি পিএসজিতে খেলেন। ওই বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে পরের বছর বার্সা তাকে দলে নিয়ে আসে। বার্সায় খেলে ২০০৫ সালে ব্যালন ডি'অর জেতেন রোনালদিনহো। পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ।

রিকার্ডো কাকা: ২০০২ বিশ্বকাপে কাকা তরুণ এক ফুটবলার হিসেবে জায়গা পান। কিন্তু বদলি হিসেবে খেলতে পারেন মাত্র ২৫ মিনিট। তবে তরুণ কাকাকে কেন বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হয়েছিল সেটা এসি মিলানের হয়ে বুঝিয়ে দেন কাকা। ২০০৭ সালে মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতান। থলিতে ভরেন ব্যালন ডি'অরও। তারপরে আর কেউ ত্রিমুকুট পরতে পারেননি।