বাতিলই হলো ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০     আপডেট: ১৮ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চলতি প্রিমিয়ার লিগ যে আর হচ্ছে না তা অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং শেষে গতকাল লিগ বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, 'করোনাভাইরাসের কারণে এবং ক্লাবগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলমান প্রিমিয়ার লিগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে এই মৌসুমে অনুষ্ঠেয় স্বাধীনতা কাপও আর হচ্ছে না।' আগামী মৌসুমে রেলিগেশনও থাকছে না। আর নতুন কোনো ক্লাবও ওঠে আসবে না প্রিমিয়ার লিগে।

দেশের ঘরোয়া ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম লিগ বাতিলের মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। লিগ বাতিল করা ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না ফেডারেশনের। গত মাসে লিগ কমিটির মিটিংয়ে বেশিরভাগ ক্লাবই আর্থিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে লিগ বাতিলের প্রস্তাব দেয়। এরপর বল বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির কোর্টে চলে যায়। রোববার ফেডারেশন সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে মিটিংয়ে সদস্যের কেউ সরাসরিভাবে ছিলেন আবার কেউ কেউ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

সবার সর্বসম্মতিক্রমে লিগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন। লিগ বাতিল হওয়ায় অনেকগুলো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু প্রতি মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে দুটি ক্লাব এএফসি কাপে খেলে। ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস খেলবে প্লে-অফে। আর লিগ চ্যাম্পিয়ন যারা হতো তারা খেলত সরাসরি মূল পর্বে। কিন্তু এখন তো লিগ পরিত্যক্ত হয়েছে, তাই সামনের মৌসুমে এএফসি কাপে বাংলাদেশের কোন ক্লাব খেলবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। এই প্রসঙ্গে বাফুফে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, 'আমরা যে লিগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা এএফসির গাইডলাইন মেনেই।

এখন যেহেতু লিগ বাতিল হয়েছে, সেহেতু পরিস্থিতি ভালো হলে এএফসির সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন দলকে খেলানো যায়। তবে এমন ক্লাববে আমরা চূড়ান্ত করব যারা অনুশীলনের মধ্যে থাকে এবং যাদের খেলোয়াড় আছে। আর বসুন্ধরা যদি প্লে-অফের গণ্ডি পেরোতে না পারে, তাহলে এমনও হতে পারে মূল পর্বে খেলার জন্য তাদের নাম আমরা এএফসির কাছে পাঠাব।' চলতি মৌসুম বাতিল হওয়ায় আগামী মৌসুমের করণীয়ও সামনে চলে এসেছে। তবে এখনই সবকিছু সামনে আনতে চান না সালাম মুর্শেদী। তার কথায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচন হবে, বিদেশি খেলানো যাবে কি যাবে না তাও সিদ্ধান্ত নেবে নতুন কমিটি।

তবে ক্লাব কিংবা খেলোয়াড় কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এটা সবার আগে দেখা হবে বলে জানান মুর্শেদী, 'আজকে শুধু একটাই এজেন্ডা ছিল সেটা লিগ। এখন যেহেতু লিগ পরিত্যক্ত হয়েছে, সেহেতু সামনে অনেক কিছুই চলে এসেছে। যে ক্লাবগুলো আছে, তাদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের চুক্তিও চলে আসবে। খেলোয়াড় কি নিজ নিজ ক্লাবে থাকবে না ছেড়ে দেবে আবার ক্লাবগুলো কি খেলোয়াড়দের রাখবে না ছেড়ে দেবে এসব কিছু নিয়ে একটা আলাদা মিটিং হবে।'